উত্তরাঞ্চলে বেকারত্ব কমাচ্ছে নওগাঁর আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার

আব্দুর রউফ পাভেল, নওগাঁ
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০:০৭আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:৫৬

আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার নওগাঁ সদর উপজেলার সান্তাহারে আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার প্রকল্পের মাধ্যমে বৃহত্তর উত্তরাঞ্চলের উদ্যোগী তরুণদের বেকারত্ব দূর হচ্ছে। ১৯৯৯ সালে ৭ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই খামার থেকে হাঁস পালনের প্রশিক্ষণ নিয়ে কয়েক হাজার মানুষ স্বাবলম্বী হয়েছেন। জানা যায়, প্রতি বছর ২৫০ জন খামারিকে স্বল্প মেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় এখান থেকে। এছাড়াও উন্নত জাতের হাঁসের ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা উৎপাদন ও তা স্বল্প মূল্যে খামারিদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়।

খামার সূত্রে জানা যায়- বর্তমানে খামার থেকে নওগাঁ, কুষ্টিয়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, নাটোর, রাজশাহী, রংপুর, নীলফামারী, টাঙ্গাইল, কুড়িগ্রাম, ঢাকা, ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ ও লালমনিরহাটসহ মোট ১৮টি জেলায় হাঁসের বাচ্চা সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

এ খামার থেকে ইন্ডিয়ার রানার, খাকি ক্যাম্পবেল, জেন্ডিং ও বেইজিং জাতের হাঁসের বাচ্চা ফুটানো ও সরবরাহ করা হয়। এ জাতের হাঁস বছরে প্রায় ২৮০ থেকে ৩০০ ডিম দেয়। স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই মুনাফা পাচ্ছেন হাঁস-পালনকারীরা।

উত্তরাঞ্চলে বেকারত্ব কমাচ্ছে নওগাঁর আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার বৃহত্তর রাজশাহী বিভাগের অধিকাংশ জেলায় নদ-নদী, খাল-বিল, হাওড়-বাওড় ছাড়াও সব আবাদি জমির অনেকাংশ বছরের কোনও না কোনও সময় পানিতে ডুবে থাকে বা অনাবাদি অবস্থায় পড়ে থাকে। এ সব এলাকায় হাঁসের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রাকৃতিক খাদ্য থাকায় হাঁস পালন অত্যন্ত লাভজনক। তাই এ খামার থেকে প্রতি বছর রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের প্রায় দেড় হাজার দরিদ্র মানুষ হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহ এবং তা পালন করে আর্থ-সামাজিকভাবে নিজেদের উন্নয়ন ঘটিয়েছে।

ইতোমধ্যে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় কয়েক হাজার খামারি ৪ দিন মেয়াদি হাঁস পালন ও তুষ পদ্ধতিতে বাচ্চা ফুটানোর ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং তারা নিয়মিত হাঁস পালন করছেন। অনেক শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকার এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে হাঁস পালন করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন বলেও জানিয়েছে খামার কর্তৃপক্ষ।

বগুড়া থেকে হাঁসের বাচ্চা কিনতে আসা আইজার আলী জানান, তিনি এক সময় বেকার সময় কাটাচ্ছিলেন। পরে এই খামার থেকে কম মূল্যে উন্নত জাতের হাঁসের বাচ্চা নিয়ে পালন করে আজ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। বর্তমানে মাসে ডিম বিক্রি করে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ হয়। হাঁসের খামার করার আগে তার নিজের কোনও জমি ছিল না। কিন্তু হাঁস পালন করেই এখন ২ বিঘা জমি কিনেছেন।

উত্তরাঞ্চলে বেকারত্ব কমাচ্ছে নওগাঁর আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে আসা হাঁস ব্যবসায়ী সুলতান হোসেন বলেন, ‘আমি একদিনের বাচ্চা কিনে নিয়ে যাই। তারপর এলাকায় গিয়ে সেগুলো বড় করে বিক্রি করি। খাকি ক্যাম্বেল হাঁসের চাহিদা সব সময় থাকে। তাই হাঁস বিক্রি করতে কোনও সমস্যা হয় না। মাস শেষে সব খরচ বাদ দিয়ে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা লাভ থাকে।’

খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, হাঁসের খামার থেকে খামারিরা অনেক লাভবান হলেও ভালো অবস্থায় নেই খামারটি। অনেক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে এটি। বর্তমানে খামারের ৮টি ব্রিডার সেট ও ২টি ব্রডিং শেডের পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, তাই পাশের কৃষকের জমিতে শেডের বর্জ্য পানি যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। কৃষকদের সঙ্গে প্রায়ই ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ছেন খামারের কর্মচারীরা। খামারের ভেতরের রাস্তাগুলো নিচু ও কাঁচা হওয়ায় বর্ষার সময় পানি জমে এবং প্রচুর আগাছা জন্মায় যা খামারের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন খামারের সকল শেডের রান ও দেয়াল সংস্কার এবং নেটগুলো রঙ না করায় তা নষ্ট হতে চলেছে। খামারের সেটের নেট অনেক স্থানেই ছিঁড়ে গেছে। ছেঁড়া নেট দিয়ে বেজি অথবা শিয়াল ঢুকলে খামারের বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়াও খামারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বসবাসের জন্য অনেকদিন আগে তৈরি করা ভবনগুলো নতুন করে সংস্কার না করায় সেগুলোও প্রায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এসব ব্যাপারে আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের ব্যবস্থাপক আব্দুল হামিদ বলেন, ‘খামারটি বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত। খামারে নিয়মিত ১৪ জন ও সংযুক্ত ২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে ১৬ জন থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ১৩ জন রয়েছে। খামারের সব কিছু নতুনভাবে সংস্কার করা প্রয়োজন। সেডের নেট ও রাস্তা সংস্কার করা অতি জরুরি।’

খামারিদের ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি খামারিদের চাহিদা মেটানোর জন্য। বর্তমানে এখানে নিয়মিত সাড়ে চার হাজার হাঁস পালন করা হচ্ছে। গত অর্থ বছরে এই খামার থেকে ১৯ লাখ টাকার হাঁস ও ডিম বিক্রি করতে পেরেছি। বর্তমান সমস্যাগুলো সমাধান করে আরও  খামারের উন্নয়ন করা হলে জাতীয় অর্থনীতিতে এই খামার বড় ভূমিকা রাখবে।’ 

 

 

/এএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
কট্টরপন্থী ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
কট্টরপন্থী ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
সংকোচে বিহ্বল নয়, আত্মবিশ্বাসে দৃপ্ত হোক নারী-কিশোরী 
সংকোচে বিহ্বল নয়, আত্মবিশ্বাসে দৃপ্ত হোক নারী-কিশোরী 
রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা: যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু
রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা: যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম