রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগকর্মী ফারুক হোসেন হত্যাকাণ্ডের ৮ বছর পার হলেও শেষ হয়নি বিচার কাজ। অধিকাংশ আসামিই রয়েছে জামিনে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফারুকের পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা দ্রুত বিচারকার্য শেষ করে আসামিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সালাম জানান, মামলাটি এখনও বিচারধীন। বিভিন্ন কারণেই দেরি হচ্ছে। আগামী ৩ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মামলাটির কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য হয়ত আগামী শুনানিতেই মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যালে স্থানান্তরিত করা হতে পারে।’
গত ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে হল দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এ হামলায় ছাত্রলীগকর্মী ফারুক হোসেন নিহত হন। পরে তাকে ম্যানহোলে ফেলে রাখা হয়। ঘটনার পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম অপু বাদী হয়ে ৩৫ জন জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে নগরীর মতিহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার প্রায় আড়াই বছর পর ২০১২ সালের ২৮ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান আদালতে ১২৬৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে জামায়াতের তৎকালীন কেন্দ্রীয় আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, রাজশাহী মহানগর আমির আতাউর রহমান, রাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি শামসুল আলম গোলাপ, সম্পাদক মোবারক হোসেন, নবাব আব্দুল লতিফ হল শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাসমত আলী, শহীদ হবিবুর রহমান হলের সভাপতি রাইজুল ইসলাম, শিবিরকর্মী রুহুল আমিন ও বাপ্পীসহ ১১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
এদিকে, ফারুক হত্যার এত বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘৮ বছরেও বিচার শেষ না হওয়া হতাশাজনক। তবে আদালতের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। আশা করছি, দ্রুত বিচার শেষ করে অপরাধীদের শাস্তি কার্যকর করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফারুকের বোন বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডহক হিসেবে কর্মরত আছেন। তার নিয়োগটা যেন স্থায়ী করা হয়, সেটা আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। আশা করছি, প্রশাসন বিষয়টিতে সুনজর দিবে।’
ফারুক হত্যার ৮ বছর উপলক্ষে শোক র্যালি, সমাবেশ ও ফারুকের স্মরণে পুস্পস্তবক অর্পণ করবে বিশ্ববিদ্যায় শাখা ছাত্রলীগ।








