‘খালেদা জিয়া নয়, কারাগারে পাঠানো হয়েছে গণতন্ত্রকে’

জাবি প্রতিনিধি
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৮:১৯আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৮:৩১

মানববন্ধনে বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা (ছবি- প্রতিনিধি)

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদণ্ডের রায়ে দেশের গণতন্ত্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা। তারা বলছেন, প্রতিহিংসামূলক এ রায়ের মধ্যদিয়ে খালেদা জিয়া নয়, মূলত গণতন্ত্রকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রায় প্রত্যাখ্যান করে বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন জাবির বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোরামের ব্যানারে অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনে রায়কে ‘সাজানো’ দাবি করে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

মানববন্ধনে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, ‘বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী শক্তি, স্বাধীন ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক খালেদা জিয়া অন্যায় বিচারের সম্মুখীন হয়েছেন। এই সরকার অন্যায়ের শেষ সীমারেখায় পৌঁছে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান সরকারের পতনকালের শুরু।’

দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘এ রায়ের মধ্যদিয়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলো দেশের গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদী দলের কিছুই হয়নি। সঠিক গণতন্ত্র চর্চার জন্য দু’টি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে প্রয়োজন। অন্যতম বড় যে দলটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব অর্জনে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে, সেই দলটিকে মাটিতে শুইয়ে দেওয়া হলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা যার পরিকল্পনায় হয়েছে আওয়ামী লীগের উচিত তাকে খুঁজে বের করা। আওয়ামী লীগের এরচেয়ে বড় ক্ষতি আর কেউ করেনি।’

ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূল করে দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র হয়েছে। দেশি-বিদেশি সব শক্তি একত্রিত হয়ে এ ষড়যন্ত্র করেছে। তাদের উদ্দেশ্য, দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করা। আদালতকে ব্যবহার করে যে রায় দেওয়া হয়েছে তা কোনোভাবেই সঠিক নয়। বিক্ষুব্ধ হওয়ার মতো রায়। আইনের ধারার সঙ্গে অভিযোগের কোনও মিল নেই।’

গণিত বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. শরিফ উদ্দিনের সঞ্চালনায় বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে আজ একটি কলঙ্কজনক দিন। রায়ে আইনের যে প্রয়োগ হয়েছে তাতে সুবিচারের কোনও প্রতিফলন নেই। প্রতিহিংসামূলক এ রায়ের মধ্যদিয়ে একটি কালো অধ্যায়ের সূচনা হলো।’

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ কামরুল আহছান,  সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. শামছুল আলম,  ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলাম, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া, সহযোগী অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম প্রমুখ।

 

/এমএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম