দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশের পর বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) চাঁদপুর শহরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং আটক করা হয়েছে বিএনপির পাঁচ নেতাকর্মীকে।
জানা যায়, পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার সময় শহরের নতুন বাজার এলাকায় হাসপাতাল ও হোটেলে ভাঙচুর চালিয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও জেলার হাজীগঞ্জের চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কে ৬টি সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয়রা জানায়, খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডাদেশের পর চাঁদপুর শহরের নতুন বাজার এলাকায় বিক্ষোভ করে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশকে ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে তারা। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ উপস্থিত হলে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় শহরের যমুনা হাসপাতাল ও ক্যাফে ঝিলে ভাঙচুর চালানো হয়।
এ ব্যাপারে সদর থানার উপ-পরিদর্শক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘নতুনবাজার মোড়ে আমরা বসে ছিলাম। হঠাৎ ৪০-৫০ জনের একটি দল পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পরে এএসপি সোহেল মাহমুদের নেতৃত্বে বাড়তি পুলিশ ফোর্স এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। এসময় ৪টি ককটেল উদ্ধার করা হয়।
ছাত্রদল নেতা ইমান গাজী জানান, সকালে বড় স্টেশনে মিছিল নিয়ে আসার পথে কালিবাড়ি এলাকায় যাওয়ার পর পুলিশ পেছন থেকে ধাওয়া দেয়। পরে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এছাড়া বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মিছিল নিয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা শহরের কালিবাড়ির দিকে যাওয়ার পথে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হামলা করে। পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্রলীগের কিছু কর্মী গুয়াখোলা এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর করেছে।
জানা যায়, হাইমচর উপজেলাতেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রায় ঘোষণার পর উপজেলার আলগী দূর্গাপুর স্কুল সংলগ্ন এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করে। পরে সেখানে পুলিশ উপস্থিত হলে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। এসময় আটক করা হয় উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল্লাহ বেপারি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদসহ ৫ জনকে। উদ্ধার করা হয় ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র।
হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনোজিত রায় জানান, নাশকতা প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে। কিছু নেতাকর্মীর দেশীয় অস্ত্রসহ নাশকতা সৃষ্টি সংবাদ পেয়ে আমরা তাদের ধাওয়া দিয়ে ২ রাউন্ড গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছি। ঘটনাস্থল থেকে ৮টি হাতবোমা, দেশীয় অস্ত্রসহ উপজেলা বিএনপি সভাপতি এবং ৫ বিএনপি-জামায়াত নেতাকে আটক করা হয়েছে। ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে কনস্টেবল ইমরান আহত হয়ে হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।
এছাড়া হাজীগঞ্জ উপজেলা শহরের চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কের বড় মসজিদ গেট এলাকায় বিকাল ৪টার দিকে বিএনপি কর্মীরা ৬ থেকে ৭টি সিএনজি ভাঙচুর করেছে।
আদালতে খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের রায় ঘোষণার পর জেলার বিভিন্ন স্থানে সংক্ষিপ্ত পরিসরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলসহ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। অপরদিকে জেলা শহর থেকে শুরু করে উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। চাঁদপুর শহরে সকাল থেকেই ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা মোটসাইকেল নিয়ে মহড়া দেয়।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, পিপিএম বলেন, ‘কেউ যাতে রায়কে কেন্দ্র করে কোনও প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে সাধারণ জনগণের কোনও ক্ষতি করতে না পারে সেজন্য আমারা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি।’








