ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘাটিয়ারা পূর্ব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় তিন জনকে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. জিয়াউল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃতরা হলো- সদর উপজেলার পয়াগ গ্রামের নাসির মিয়ার মেয়ে তামান্না আক্তার (১৭), মো. হিরণ মিয়া (১৭) এবং সিএনজি অটোরিকশাচালক শরিফ খাঁন (১৯)।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো ঘাটিয়ারা গ্রামের প্রাথমিক স্কুলের চার শিক্ষার্থী- জান্নাত, শাকিলা, মিম এবং লিমা বুধবার দুপুরে পায়ে হেঁটে তাদের নিজ বিদ্যালয়ে যাচ্ছিলো। এসময় তারা একটি সিএনজি যেতে দেখে। তখন ওই সিএনজি অটোরিকশাচালককে তারা তাদের বিদ্যালয়ে নামিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করে। এসময় অটোরিকশাচালক তাদের সিএনজিতে উঠিয়ে নেন। কিন্তু চার শিক্ষার্থীকে তাদের বিদ্যালয়ের সামনে না নামিয়ে অন্যস্থানে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ভয় পেয়ে যায়। তখন লিমা নামে এক শিক্ষার্থী অটোরিকশা থেকে লাফিয়ে পরে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। এসময় সে গুরুতর আহত হয়। পরে গ্রামবাসী বিষয়টি বুঝতে পেরে ধাওয়া করে চালকসহ অটোরিকশাটি আটক করে। এসময় অটোতে থাকা তিন ব্যক্তিকে গণধোলাই দেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ তাদের অপহরণে জড়িত সন্দেহে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অটোরিকশা থেকে লাফিয়ে আত্মরক্ষা করা শিক্ষার্থী লিমাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত শিক্ষার্থী লিমা আক্তারের মা ফাতেমা আক্তার জানান, আমার মেয়েকে অপহরণের চেষ্টার সঙ্গে যারা জড়িত আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
একই কথা জান্নাতের মা কাজল রেখা এবং মিম আক্তারের মা রোমা আক্তারেরও। তাদের দাবি, তাদের সন্তানকে অপহরণের জন্যেই সিএনজিতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল অপহরণকারীরা। এর আগেও তাদের গ্রাম ঘাটিয়ারায় শিশু অপহরণের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছিল।
তারা আরও বলেন, ‘এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে শিশু অপহরণ বাড়বে। পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠাতে আগ্রহ হারাবে অভিভাবকরা।’
ঘাটিয়ারা পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদিয়া আফরিন জানান, এ ঘটনার পর এলাকায় ছেলেধরা আতঙ্ক ছড়িয়ে পরেছে। ফলে বিদ্যালয়ের উপস্থিতি কমে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনা তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে ঘাটিয়ারা গ্রামে গিয়ে সন্দেহভাজন তিন জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তাই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক জানান, অপহরণের চেষ্টার ঘটনা সর্ম্পকে জেনেছি। আহত শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা জানার পাশপাশি অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সর্ম্পকেও খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে।








