নীলফামারীর সৈয়দপুরে মালেকা বেগম নামে এক নারী হত্যার দায়ে স্বামী জাহিদ (৪৫) কে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। নিহতের সন্তান মালেক বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। সৈয়দপুর থানার ওসি মো: শাহজাহান পাশা বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নিহত মালেকা বেগম (৪০) উপজেলার কামার পুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল গ্রামের ট্রাক ড্রাইভার জাহিদের স্ত্রী।
এলাকাবাসী জানায়, গত সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১ টার দিকে গৃহবধূ মালেকার চিৎকারে ছুটে আসেন মামাতো ভাই মিজানুর। তিনি দেখতে পান মালেকা বেগম অগ্নিদদ্ধ হয়ে কাতরাচ্ছেন। মালেকার স্বামী এসময় ঘরেই ছিলেন। জাহিদ তখনই তার স্ত্রীকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সে রাতেই মালেকা বেগমকে রংপুর মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
পর দিন মঙ্গলবার (৬ ফেব্রয়ারি) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর জন্য বলা হয়। জাহিদ তার স্ত্রীকে ঢাকায় না নিয়ে গিয়ে বাসায় নিয়ে আসে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে অবস্থার অবনতি হলে তাকে পার্বতীপুর ল্যাম্ব হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে সন্ধা ৬ টায় মালেকার মৃত্যু হয়।
শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে তার লাশ দাফন করার সময় বাধা দেয় মালেকার ছেলে মালেক ও তার মামা। বিষয়টি সৈয়দপুর থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে নিহত মালেকার মরদেহ ও তার স্বামী জাহিদকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
মালেকা বেগমের ছেলে মালেক (২০) অভিযোগ করে জানায়, বাবা আমার মাকে মেরে ফেলেছে। আমাদের এলাকার মমিনুর রহমান মমিন নামে এক ব্যক্তির সহায়তায় থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে আমার বাবা মায়ের লাশ দাফনের চেষ্টা করে। আমার মায়ের হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
সৈয়দপুর কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লোকমান জানান, ধারনা করা হচ্ছে পরিকল্পিত ভাবে তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে জাহিদ।
সৈয়দপুর থানার ওসি মো: শাহজাহান পাশা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নিহতের স্বামী জাহিদকে আটক করা হয়েছে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।








