মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিল হাইল হাওরে এবারের শীত মৌসুমে ৩৮ প্রজাতির পরিযায়ী পাখির দেখা পাওয়া গেছে। এছাড়াও এই জলাশয়ে মোট ৫ হাজার ৪১৮টি পাখি এসেছে। এরমধ্যে ‘পাতি তিলিহাঁস’ পাখির দেখা মিলেছে সবচেয়ে বেশি। পাখির সংখ্যায় পাতি তিলিহাঁস দেখা গেছে ১ হাজার ৫৮০ টি।
বাইক্কা বিলে পাখি শুমারি শেষে হাইল হাওরে জীববৈচিত্র্য রক্ষার কাজে ক্রেল প্রকল্পের সাইট অফিসার মো.মনির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের সংরক্ষিত মাছের অভয়াশ্রম বাইক্কা বিল গত কয়েকবছর ধরে পাখির জন্য ‘অনিরাপদ’ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও পরিযায়ী পাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে এলেও বাইক্কা বিলে পাখির সংখ্যা এবছর কম।
এবার পাখি শুমারিতে গত বছরের তুলনায় কম পাখির দেখা পাওয়া গেছে। গত বছর (২০১৭) এই বিলে পাখি শুমারিতে ৪১ প্রজাতির ১০ হাজার ৭১৩টি পাখির দেখা মিলেছিল। আর ২০১৬ সালে দেখা পাওয়া গিয়েছিল ৩১ প্রজাতির ৮ হাজার ৮৩১টি পাখি।
তবে পাখির বাইক্কা বিলে এই শীত মৌসুমে পর্যট ও দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে। প্রতিদিনই পাখিপ্রেমিরা ছুটে আসছেন এখানে পাখি দেখতে। বাইক্কা বিলের পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে দূরবীনের সাহায্যে পাখি আর বিলের জলজ সম্পদ দেখছেন পর্যটকরা।
বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক বাংলা ট্রিবিউনকে রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) জানান, জানুয়ারি মাসের ২৪ ও ২৬ তারিখে বাইক্কা বিলে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব ও ক্রেল প্রকল্প পাখি শুমারি সম্পন্ন করেছে। এবছর জানুয়ারির শেষে বাইক্কা বিলে ‘পাতি তিলিহাঁস’ বেশি পেয়েছি। ফেব্রুয়ারিতে পাখি শুমারি করলে হয়তো অন্য একটি প্রজাতির হাঁস বেশি পাওয়া যেতো। পাতি তিলিহাঁসগুলোকে জানুয়ারিতে যেভাবে বেশি সংখ্যায় দেখা যায়, তেমন ফেব্রুয়ারিতে দেখা যায় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জানুয়ারি মাসের ২৭ ও ২৮ তারিখে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব এবং আই ইউ সি এন নামের একটি পাখি পর্যবেক্ষক দল টাঙ্গুয়ার হাওড়ে পাখি শুমারি করে। মোট ৩৬ প্রজাতির ৫৯ হাজার ৫৪২টি পাখি গণনা করা হয়েছে। এরমধ্যে পিয়ং-হাঁস ছিল সবচেয়ে বেশি ১৯৭৫২টি। উল্লেখযোগ্য পাখিদের মধ্যে ছিল ১৫০ খয়রা-কাস্তেচরার একটি ঝাঁক, এছাড়া বৈকাল তিলিহাঁস, পালাসি-কুরাঈগল, উদয়ী-গয়ার।’
সরেজমিনে দেখা যায়, বাইক্কা বিলে বিচ্ছিন্নভাবে অতিথি পাখি শিকার করে কিছু মৎস্যজীবী মাছের সঙ্গে বাসা বাড়িতে এসব পাখিও বিক্রি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে উপজেলার উত্তরসুর ও বরুণা হাজীপুর গ্রামের মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের লোকজন হাওরের বিল লিজের আড়ালে এসব অতিথি পাখি নিধন করছেন। যার ফলে বাইক্কা বিল হাওরে অতিথি পাখির সংখ্যা এবছর কম।








