টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়ার আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
এ মামলার প্রধান আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলার বাদী ও নিহত মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের স্ত্রীর সাক্ষ্য দেন। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বাদীকে ১৫ মিনিট জেরা করেন। অবশেষে আদালত এ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২০ মার্চ নির্ধারণ করেন।
এর আগে অসুস্থতার কারণে আমানুর রহমান খান রানাকে আদালতে হাজির না করায় এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চার বার পিছিয়ে যায়।
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত আইনজীবী (পিপি) মনিরুল ইসলাম খান জানান, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আজ (রবিবার) সাক্ষীর জন্য মামলার বাদী নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী নাহার আহমেদ, ছেলে আহমেদ মজিদ সুমন ও মেয়ে ফারজানা আহমেদ মিথুনের হাজিরা দেওয়া হয়। মামলার অপর আসামি কারাগারে আটক আসামি আনিসুল ইসলাম রাজা, মোহাম্মদ আলী ও মো. সমিরকে আদালতে হাজির করা হয়। একইসঙ্গে জামিনে থাকা অপর তিন আসামি মাসুদুর রহমান, ফরিদ আহম্মেদ ও নাসির উদ্দিন নুরু আদালতে হাজির হয়েছেন।
এদিকে, কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে সকাল সাড়ে ৯টায় আদালতে আনা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার বাসার সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। পরে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এমপি আমানুর ও তার তিন ভাইয়ের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি এই চার ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। প্রায় দুই বছর পলাতক থাকার পর গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর রানা আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর থেকে তাকে কাশিমপুর কারাগারে রাখা হয়েছে। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর নাসির উদ্দিন নুরু ও মাসুদুর রহমান মাসুদ নামে আরও দু’জন অভিযুক্ত আদালতে আত্মসমর্পণ করে। ৯ বার তারিখ পেছানোর পর গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর দণ্ডবিধির ৩০২/ ১২০/৩৪ ধারায় সংসদ সদস্য রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করেন আদালত।








