নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানকারী সাড়ে ৬ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে মিয়ানমার।
মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। মিয়ানমারের ঢেকিবুনিয়া সীমান্তের তংপিও লিতওয়ে নামক স্থানে বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হয়ে দুই ঘণ্টা চলে বৈঠকটি। ফিরে এসে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
বাংলাদেশের ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান। এ দলে আরও ছিলেন বিজিবি কক্সবাজার সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আব্দুল খালেক, কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার জেলা প্রশাসকসহ বিজিবি ও সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা।
মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলে ছিলেন মংডুর ডেপুটি কমিশনার ইউ ইয়ে হুড, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা, পুলিশ, বিজিপি ও গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, ‘যেহেতু তুমব্রু নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা এখনও বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি, তাই আমরা সেখানে অবস্থানকারী সাড়ে ৬ হাজার রোহিঙ্গাকে স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে বিজিপির কাছে প্রস্তাব রাখি। আমাদের এ প্রস্তাব তারা চিন্তাভাবনা করে দেখবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এখনই নেওয়ার ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত তারা দেয়নি। তবে বাকি রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে এ বৈঠকে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’
সূত্র জানায়, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, মিয়ানমারের সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় প্রশাসক নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে দেখা করে তাদের তালিকা গ্রহণ করে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল নো-ম্যানস ল্যান্ডের রোহিঙ্গাদের সঙ্গেও দেখা করেন। রোহিঙ্গারা প্রতিনিধিদলকে জানান, তারা রাখাইনে ফেরত যেতে চান। সেখানে তারা নাগরিকত্বসহ অন্যান্য অধিকার নিয়ে বাস করতে চান।
গত ২৬ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হামলার মুখে প্রাণ বাঁচাতে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তারমধ্যে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের তুমব্রু কোনারপাড়ার নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নেয় সাড়ে ৬ হাজার রোহিঙ্গা।








