চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পোশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে ৪ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এ আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। দাবি পূরণ না হলে ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার আরিফুর রহমান সবুজ ও ক্যামরাপারসন মো. নাছিরুল আলম এবং সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার পার্থ প্রতীম বিশ্বাস ও ক্যামরাপারসন নুর জামান আতিকের ওপর ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সময়টিভির গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিসেও ভাঙচুর চালান। ওই ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)।
সিইউজে’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে টিভি ইউনিট প্রধান অনিন্দ্য টিটোর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিইউজে সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, বিএফইউজে’র সহ-সভাপতি শহীদ উল আলম, সিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহম্মেদ, রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, বিএফইউজে’র যুগ্ম সম্পাদক তপন চক্রবর্তী, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ ফারুক, সিইউজে’র সাবেক সহ-সভাপতি নিরুপম দাশ গুপ্ত, সিইউজে’র যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভ, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম, সিইউজে’র অর্থ সম্পাদক কাশেম শাহ, প্রচার ও প্রকাশনা সস্পাদক আহমেদ কুতুব, নির্বাহী সদস্য উত্তম সেন গুপ্ত, পূর্বদেশ ইউনিট প্রধান রতন কান্তি দেবাশিষ, টিভি ইউনিটের ডেপুটি প্রধান মাসুদুল হক, চট্টগ্রাম টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন যুগ্ম সম্পাদক লতিফা আনসারী রুনা, চট্টগ্রাম টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি শফিক আহমেদ সাজিব, হামলার শিকার সাংবাদিক আরিফুর রহমান সবুজ, পার্থ প্রতীম বিশ্বাস, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি হুমায়ন মাসুদ, সমিতির বর্তমান সভাপতি আশহাবুর রহমান শোয়েব প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘গত ২০ ফেব্রুয়ারি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের চার সহকর্মী ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার। ঘটনার পর দুইদিন পার হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনও ধরণের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।’
তারা আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণে ছাত্রলীগ নামধারী এসব সন্ত্রাসীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এর দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যাথায় আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভিসির পদত্যাগ, কার্যালয় ঘেরাওসহ একদফা দাবিতে আন্দোলন শুরু হবে।’ রাজনৈতিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের কার্যালয় ঘেরাও করা হবে বলে সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়।








