সুন্দরগঞ্জে নিহত ৪ পুলিশকে অশ্রুতে স্মরণ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২০:৩২আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২০:৪৭

নিহত পুলিশ সদস্যদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতি স্তম্ভে ফুলেল শুভেচ্ছা পাঁচ বছর আগে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের সশস্ত্র হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারানো চার পুলিশকে স্মরণ করেছেন স্থানীয় পুলিশ সদস্যসহ এলাকাবাসী। এসময় তদন্ত কেন্দ্রে স্থাপিত স্মৃতি স্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। স্মরণ সভায় নিহত পুলিশ সদস্যদের স্বজন ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ উপস্থিত সবাই অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠেন।
২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের সাজা হিসেবে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায় ঘোষণার পরই জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা স্থানীয় অনুসারীদের নিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ শুরু করে। তাদের আক্রমণের শিকার হয় বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রও। সেখানে একপর্যায়ে তারা পুলিশ সদস্য তোজাম্মেল হক, নজিম উদ্দিন, বাবলু মিয়া ও হযরত আলীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে।
শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন নিহত পুলিশ সদস্যদের স্বজনরা নৃশংস ও নির্মম এই ঘটনার স্মরণে আজ বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে স্থাপিত স্মৃতি স্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। এসময় স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে নিহতদের স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চার পুলিশ সদস্যের স্মরণে আলোচনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. তাজুল ইসলাম, সঞ্চালনা করেন গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক ফয়সাল সাকিদার আরিফ। সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম গোলাম কিবরিয়া ও সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিয়ার রহমান।
অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সমশ উদ্দিন বাবু, বামনডাঙ্গা সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব বিষ্ণু রাম রায়, মানবাধিকারকর্মী মাহাবুবুর রহমান, সাংবাদিক হাবিবুর রহমান হবি ও শাহজাহান মিয়া। আলোচনা শেষে নিহত চার পুলিশ সদস্যর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
আলোচনা সভায় উপস্থিত অতিথিরা এদিকে, চার পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যার পাঁচ বছরেও বিচার শুরু না হওয়ায় হতাশা জানিয়েছেন নিহতের স্বজনসহ স্থানীয়রা। দ্রুত বিচার শেষ করে দোষীদের সর্ব্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এসময় নিহত পুলিশ কনস্টেবল হযরত আলীর স্ত্রী লায়লা বেগম বলেন, ‘ওই ঘটনার পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার পাইনি। আমার স্বামী যখন মারা যায়, তখন তার চাকরির মাত্র আট বছর। সে একাই ছিল আমাদের পরিবারের উপার্জনকারী সদস্য। সন্তানের পড়ালেখার খরচ জোগারসহ সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বারবার ঘুরেও পেনশনের টাকাটা তুলতে পারছি না।’ হযরত আলী নিহত হওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিকবার চাকরির আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন-
ঢাকার সঙ্গে উত্তরের ১১ জেলার বাস চলাচল শুরু
সুন্দরগঞ্জে আ.লীগে যোগ দিলেন জাপা’র দুই শতাধিক নেতাকর্মী

/টিআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম