আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, ‘লালন অহিংস মানবতার ব্রত নিয়ে মানুষের কল্যাণে অসংখ্য গান সৃষ্টি করে গেছেন। তার এই অমর সৃষ্টি কোনও ধর্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সব ধর্মের ঊর্ধ্বে থেকে সম্প্রীতির বাঁধনে আবদ্ধ করতে মরমী এই সাধক মানব মুক্তির জন্য সৃষ্টি করেছিলেন ফকিরি মতবাদ। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে লালনের আদর্শে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) রাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সমাজে এক শ্রেণির লোক ধর্মকে হাতিয়ার বানাতে চায়। তারা ধর্মকে ব্যবহার করে কীভাবে এদেশে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, মানুষ তা দেখে হতবাক হয়েছে। ধর্মের নামে সাধারণ নিরীহ মানুষের ওপর নৃশংস বর্বরতা ও হানাহানি করে জাতিকে বিভক্তি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যা কোনও সভ্য সমাজে কাম্য নয়।’
হানিফ আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন পুরো বিশ্বের কাছে নিজের সফলতার কারণে শ্রেষ্ঠ তিনজনের মধ্যে একজন হচ্ছেন, সেখানে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিতে বিখ্যাত হওয়ার দুর্নাম অর্জন করছেন।’
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এস এম মেহেদি হাসান, কুষ্টিয়া জজ কোর্টের জিপি অ্যাডভোকেট আখতারুজ্জামান মাসুম, পিপি অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান ও সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, লালন একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাইজাল আলী খান, সাংবাদিক ইউনিয়ন কুষ্টিয়ার সভাপতি রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব প্রমুখ। প্রধান আলোচক হিসেবে লালন সাঁইয়ের জীবন, দর্শন ও সৃষ্টি গানের মর্মকথা নিয়ে আলোচনা করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান। আলোচক হিসেবে সাঁইজির ভাবাদর্শ নিয়ে আলোচনা করেন লালন মাজারের খাদেম মোহাম্মদ আলী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহিনুজ্জামান, লালন একাডেমির অ্যাডহক কমিটির সদস্য সেলিম হক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের কুষ্টিয়া লালন একাডেমির পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া, ক্রেস্ট ও আত্মশুদ্ধির প্রতীক একতারা উপহার দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। আলোচনা সভা শেষে গভীর রাত পর্যন্ত খ্যাতনামা শিল্পীরা লালন সঙ্গীত পরিবেশন করেন।







