বগুড়ার ধুনট উপজেলার বাঙালি নদীর জয়শিং ঘাট এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে অবাধে বালু তোলা হচ্ছে। এ কারণে নদীর তীরবর্তী বসতবাড়ি, ভিটেমাটি ও ফসলের জমি ভাঙনের মুখে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ জানানোর পরেও কোনও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না, উল্টো ফরহাদ হোসেনের ও তার লোকদের হামলায় ১০ অভিযোগকারী আহত হয়েছেন। এমনটাই অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয়রা জানান, নিমগাছি ইউনিয়নের জয়শিং গ্রামের আবু তাহের ফকিরের ছেলে ফরহাদ হোসেন বাঙালি নদীতে ড্রেজার বসিয়ে গত ছয় মাস ধরে অবাধে বালু উত্তোলন করছে। পাইপের মাধ্যমে এ বালু পশ্চিম ও পূর্ব পাশে জমা করা হচ্ছে। সেখান থেকে প্রতি ট্রাক বালু ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে নদীর চর দখল করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করলেও ‘জয়শিং ফেরিঘাট বালু পয়েন্ট’ নামে ক্যাশ-মেমো দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি কম থাকায় এবং গভীর তলদেশ থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করায় নদীর কিছু স্থানের গভীরতা বৃদ্ধি পেয়ে তীর ভাঙতে শুরু করেছে। ফলে নদীর তীরবর্তী জনগণের বসতভিটা, ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। এক পর্যায়ে বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বালু ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসেন ও তার লোকজন অভিযোগকারীদের ওপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় ১০ অভিযোগকারী আহত হন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে ফরহাদ হোসেন এখনও বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া একই ইউনিয়নের সোনাহাটা ও নান্দিয়ারপাড়া এবং চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের দীঘলকান্দি সংলগ্ন বাঙালি নদীতেও একইভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন এবং বিক্রি করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
জয়শিং গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান, রফিকুল ইসলাম ও হামিদুর রহমান জানান- জেলা যুবলীগের কয়েকজন নেতার নাম ব্যবহার করে ফরহাদ হোসেন গত ৬ মাস ধরে বাঙালি নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে। এর ফলে নদীর তীরবর্তী মানুষদের বাড়িঘর ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করায় মারধর করা হয়েছে ১০ ব্যক্তিকে। এরপরও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এখনই প্রশাসন পদক্ষেপ না দিলে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পথে বসবেন বলেও জানিয়েছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে বালু ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘বালু উত্তোলনের জন্য সরকার থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়নি। তবে জেলা যুবলীগের কয়েকজন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে ও সবকিছু ম্যানেজ করেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।’
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘বাঙালি নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বালু উত্তোলন করাকে কেন্দ্র করে মারধরের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি।’








