গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে উপ-নির্বাচন আগামী ১৩ মার্চ। ইতোমধ্যে প্রার্থীরা তাদের প্রচার কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন। প্রায় প্রতিদিনই তারা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন। এদিকে, ভোট চেয়ে প্রার্থীদের জন্য মাইকিং করছেন তাদের সমর্থকেরা। চলছে নির্বাচনি মিছিল ও সভা-সমাবেশ। একইসঙ্গে রাস্তার পাশে, বাজারে, চায়ের দোকানগুলোতে চলছে নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনাও।
সরেজমিনে দেখা যায়, সুন্দরগঞ্জের রাস্তাঘাট ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের পোস্টার ও ব্যানারে। প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থকদের মাইকিংয়ে সবর্ত্র উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। জল্পনা-কল্পনা আছে, নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ কষছেন সাধারণ ভোটাররা। তারা বলছেন, বিগত সময়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেকে সংসদ সদস্য হয়েছেন। কিন্তু এলাকার উন্নয়নে তারা তেমন একটা কাজ করেনি। তাই এবার আর ভোটাররা দল বা প্রতীক দেখে ভোট দেবেন না। যারা ইতোমধ্যে মানুষের কল্যাণ ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন, ভোটাররা তাদের ভোট দেবেন।
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের উপ-নির্বাচন দ্বিতীয় বারের মতো আগামী ১৩ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে চার জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন। এর মধ্যে নৌকা প্রতীকে লড়বেন আওয়ামী লীগের প্রয়াত এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের বড় বোন আফরোজা বারী, লাঙল প্রতীকে লড়বেন জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, আম প্রতীকে লড়বেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির খালেকুজ্জামান খান দুদুর উত্তরসূরি জিয়া জামান খাঁন ও মাছ প্রতীকে লড়বেন গণফ্রন্টের প্রার্থী শরিফুল ইসলাম। তবে এ নির্বাচনে কোনও প্রার্থী দেয়নি বিএনপি-জামায়াত জোট।
নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং আওয়ামী লীগের জয় হবে বলে আশাবাদী দলটির প্রার্থী আফরোজা বারী। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তিনি ক্ষতাসীন দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। তবে তার দাবি, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তিনিই জয়ী হবেন। গণফ্রন্টের প্রার্থী শরিফুল ইসলাম আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ কালো টাকা ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন।
ব্যরিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘জাতীয় পার্টির ঘাঁটিতে নৌকা নয়, লাঙলই জয়ী হবে। তবে নির্বাচিন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে ভয় আছে আমার। যদি এমপি নির্বাচিত হই, তবে উপজেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও যোগাযাগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করবো।’
আফরোজা বারী বলেন, ‘সুন্দরগঞ্জ এখন নৌকার ঘাঁটি। উন্নয়নের স্বার্থে আপারমর জনগণ নৌকাতেই ভোট দেবেন। এবারও নৌকারই জয় হবে। এমপি নির্বাচিত হলে প্রয়াত এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন ও গোলাম মোস্তফা আহম্মেদের অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত করবো। একইসঙ্গে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নে কাজ করবো।’ আচরণবিধি লঙ্ঘন ও হামলার অভিযোগ ভিত্তীহীন বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, গণফ্রন্টের প্রার্থী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন ও পেশি শক্তি প্রদর্শন করছেন। এছাড়া তারা কালো টাকা ছড়াচ্ছেন।’
ন্যাশনাল পিপলস পার্টির জিয়া জামান খাঁন বলেন, ‘সুন্দরগঞ্জের মানুষ বিগত সময়ে নৌকা ও লাঙ্গলে ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করেছেন। কিন্তু এমপি হলেও তারা এলাকার উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনও কাজ করেননি। তাই এবার এলাকার মানুষ নৌকা বা লাঙ্গলে নয়, সুন্দরগঞ্জকে সুন্দররূপে গড়ার সুযোগ দিতে আম প্রতীকে ভোট দেবেন।’
রংপুর অঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটানিং কর্মকর্তা জি.এম. সাহাতাব উদ্দিন বলেন, ‘সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনও ব্যত্যয় ঘটবে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখাসহ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেজন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।’
১৫ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-১ আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫৬। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৩৪ হাজার ৯৩৪ ও নারী ভোটার ১ লাখ ৭৩ হাজার ৬২২ জন। ১০৯ কেন্দ্রে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।








