নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও হবিগঞ্জের হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ এখনও শেষ হয়নি। এ ছাড়া বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সঠিকভাবে কাজ না হওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। গত বছর বন্যায় সব ফসল হারিয়ে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও বাঁধ নিয়ে রয়েছেন তারা দুশ্চিন্তায়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এ বছরে হবিগঞ্জ জেলায় ২৫ কিলোমিটার হাওর রক্ষাবাঁধ পুনর্নির্মাণের জন্য ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ চায় পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর মধ্যে দুই কিস্তিতে দুই কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে।
বন্যায় ভেঙে যাওয়ার সব বাঁধ নির্মাণের কাজ ২৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৬০ ভাগ কাজও করতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড দাবি করেছে, ১১ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ বাঁধ নির্মাণে ত্রুটি ও অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক বাঁধই নকশা অনুযায়ী করা হয়নি বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।
সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের হায়দার আলী জানান, গত বছর সব ফসল হারিয়ে দিশেহারা কৃষকেরা এবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে আবারও বাঁধ ভেঙে ফসলহানির আশঙ্কা করছেন তারা। তিনি বলেন, ‘বাঁধ নির্মাণ কাজ চললেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনও কর্মকর্তা এখানে আসেননি।’
গজারিয়াকান্দি গ্রামের ইলিয়াস মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘বাঁধ নির্মাণে ড্রয়িং (নকশা) অনুযায়ী কাজ করা হয়নি। কাজে অনেক ত্রুটি রয়েছে। যেভাবে কাজ করা হচ্ছে খোয়াই নদীতে বন্যা আসলে আবার বাঁধ ভাঙার আশঙ্কা করছি। তাই আমাদের দাবি, একটি মজবুত ও শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। তাহলে কৃষকদের মনে স্বস্তি ফিরে আসবে।’
পার্শ্ববর্তী ধনেরআব্দা গ্রামের আব্দুল মতলিব জানান, বাঁধ নির্মাণ করা হলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার কারণে স্বস্তি পাচ্ছেন না তারা। তিনি বলেন, ‘এখন যদি বৃষ্টি হয় তাহলে বাঁধ ভেঙে আবার ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর আবার ফসল তলিয়ে গেলে এর জন্য দায়ী থাকবে পানি উন্নয়ন বোর্ড।’
গজারিয়াকান্দি এলাকায় হাওর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার ফারুক মিয়া জানান, বাঁধগুলোর কাজ স্থানীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশমতো করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বাঁধ নির্মাণ সঠিকভাবে হচ্ছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এখনও কাজ শেষ হয়নি। আরও সময় লাগবে। তবে কতদিন সময় লাগবে তা তিনি সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেরিতে বরাদ্দ আসায় কাজ শুরু করতে একটু দেরি হচ্ছে। তবে তিনি আশা করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। ত্রুটি-অনিময় দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকতাদের বাঁধ মনিটরিং (নজরদারি) করতে দেখা যায়নি জানালে তিনি বলেন, ‘বাঁধ নির্মাণের কাজ দেখতে প্রতিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটি মনিটরিং করছে।’








