বগুড়ায় ছাত্রী ধর্ষণ ও মা-মেয়ের মাথা ন্যাড়া করার ঘটনার মূল আসামি তুফান সরকার ও তার ভাই মতিন সরকারের সম্পদের হিসাব চেয়ে তাদের নোটিশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (৭ মার্চ) বিকালে দুদক সমন্বিত বগুড়া কার্যালয় থেকে তাদের এই নোটিশ দেওয়া হয়। দুদক সমন্বিত বগুড়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম এ খবর নিশ্চিত করেন।
তুফান সরকার বগুড়ার শহর শ্রমিক লীগের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক ও তার ভাই মতিন সরকার শহর যুবলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
দুদক সমন্বিত বগুড়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, তুফান ও মতিন সরকারকে পাঠানো নোটিশে (স্মারক নং- দুদক/সজেকা/বগুড়া/আদশ) উপ-পরিচালক আনোয়ারুল হকের স্বাক্ষর রয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে দুদকের স্থির বিশ্বাস জন্মেছে, তুফান সরকার ও মতিন সরকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ বা সম্পত্তির মালিক হয়েছে। এ কারণে তাদের নিজের, স্ত্রীদের এবং তাদের উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে ও বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বা সম্পত্তির দায়-দেনা, আয়ের উৎস এবং তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ দিতে হবে। নোটিশ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যেই সম্পদের হিসাব জমা করতে হবে।
আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা সম্পদের হিসাব জমা না দিলে বা মিথ্যা হিসাব জমা করলে যাচাইবাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’
গত বছরের ২৮ জুলাই কলেজে ভর্তির বিষয়ে সাহায্যের নাম করে তুফান সরকার এক ছাত্রীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুমকির সহযোগিতায় ভিকটিমটিকেই এ ঘটনার জন্য দায়ী করে এবং বিচারের নামে ভিকটিম ও তার মায়ের মাথা ন্যাড়া করে দেয়। এরপর তুফান মা ও মেয়েকে এসিড মারার হুমকিও দেয়। পরে ভিকটিম ও তার মায়ের চুল কেটে দিলে তারা থানায় মামলা করেন। এ মামলার বেশিরভাগ আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর জের ধরে তুফানের ভাই মতিনকে একাধিক হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়। পরে মতিন সরকার জামিনে ছাড়া পায়।








