প্রাপ্তবয়স্ক দুই জেব্রার সঙ্গে তিড়িংবিড়িং করে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে একটি শাবক। সদ্য জন্ম নেওয়া শাবকটির এমন লাফানোর দৃশ্য দেখতে কার না ভালো লাগে! নয়ন ভরে তাই দেখছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে আসা দর্শনার্থীরা। আর দর্শনার্থীদের এমন আনন্দ দেখে খুশি কর্তৃপক্ষও।
বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) সকালে গাজীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে আসা দর্শনার্থীদের কাছে জেব্রা শাবকটি হয়ে উঠেছিল মূল আকর্ষণ। চঞ্চল সন্তানটিকে বেশ নজরে রেখেছে তার মা। আর রাখবে নাই-বা কেন! আজ ভোরেই তার গর্ভ থেকে জন্ম নিয়েছে শাবকটি। কোনও রকমে দাঁড়ানোর শক্তি পেয়েই ছুটোছুটি শুরু করে সে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক সূত্র জানায়, এ নিয়ে তৃতীয় বারের মতো আবদ্ধ পরিবেশে জন্ম নিয়েছে জেব্রা। নতুন শাবকটিসহ বর্তমানে পার্কে জেব্রার সংখ্যা ১৪।
পার্কের বন্যপ্রাণি পরিদর্শক সরোয়ার হোসেন খান জানান, মঙ্গলবার ভোরে সাফারি পার্কের ভেতর মায়ের সঙ্গে বাচ্চাটিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। মা জেব্রা ও তার বাচ্চা সুস্থ আছে। কিছুক্ষণ পরপর মা জেব্রা বাচ্চার শরীরে জিহ্বা দিয়ে চেটে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘জেব্রার মূল খাবার মূলত ঘাস। তবে এখন মা ও বাচ্চা জেব্রাকে ঘাসের পাশাপাশি ছোলা, গাজর, ভুট্টা ও ভুসি দেওয়া হচ্ছে।’
বন্যপ্রাণি পরিদর্শক আনিসুর রহমান জানান, জেব্রা হলো ইকুইডি পরিবারের আফ্রিকান ক্ষুরযুক্ত চতুষ্পদ স্তন্যপায়ী প্রাণি, যারা তাদের স্বতন্ত্র সাদা-কালো ডোরার জন্য পরিচিত। জেব্রার ডোরার এই নকশা প্রত্যেকের জন্য আলাদা। এরা সামাজিক প্রাণি, এরা ছোটবড় পাল তৈরি করে ঘুরে বেড়ায়। প্রাপ্তবয়স্ক একটি জেব্রা সাধারণত ৮ ফুট লম্বা হয় ও ওজন ৩০০ কেজি ছাড়িয়ে যায়। ডোরার পাশাপাশি এদের ঘাড়ে কেশর সদৃশ্য খাড়া চুল আছে। তবে জেব্রা দেখতে ঘোড়া বা গাধার মতো হলেও এদের পোষ মানানো যায় না। পুরুষ বাচ্চারা চার বছর এবং মাদী বাচ্চারা তিন বছর বয়সেই অনেকটা পূর্ণতা লাভ করে।
তিনি আরও জানান, প্রাকৃতিকভাবে জেব্রা সাধারণত ২০ বছর বাঁচে। আর আবদ্ধ পরিবেশে তারা ২০ বছরের বেশি সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। এর আগে ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ও ২০১৭ সালে ১৪ মে জেব্রা থেকে বাচ্চা পাওয়া গিয়েছিল।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন জানান, সাফারি পার্কের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন সময় দক্ষিণ অফ্রিকা থেকে পাঁচটি পুরুষ এবং ছয়টি মাদী জেব্রা আনা হয়।








