বরিশালের চরমোনাই লঞ্চঘাট এলাকায় ট্রলার ডুবির তিন দিন পর শনিবার আরও একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে ওই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো সাত জনে। এর আগে আরও ছয় জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
বরিশাল নৌ-থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেল্লাল হোসেন জানান, শনিবার (১০ মার্চ) উদ্ধার হওয়া মৃতদেহটি যশোরের মনিরামপুরের সোহরাব হোসেন মোড়লের বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ট্রলার ডুবির ঘটনায় কেউ কোনও অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি। ফলে অপমৃত্যুতে নিহত হিসেবে এন্ট্রি করে লাশগুলো স্বজন ও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া মাহফিল কমিটির ব্যবস্থাপনায় মৃত ব্যক্তিদের লাশ নিজি নিজ ঠিকানায় পৌঁছানো ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বুধবার চরমোনাই মাদ্রাসায় শুরু হওয়া তিন দিনের এ মাহফিল শনিবার ফজরের নামাজের পর বয়ান ও আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এর আগে ট্রলার ডুবির শিকার মুসল্লিদের মৃতদেহগুলো চরমোনাই ইউনিয়ন সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর বিভিন্ন স্থানে ভেসে উঠলে শুক্রবার দুপুরে ও বিকালে পুলিশ তা উদ্ধার করে। এলাকাবাসী ও স্বজনরা প্রাথমিকভাবে নিহতদের লাশ শনাক্ত করেন।
নিহত অন্য ছয় জন হলেন— মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পাচনখোলা এলাকার বাদশা ঢালী (৬৫), গাজীপুর সদরের আবদুল মালেকের ছেলে ইফতেখার (৯), আমানউল্লাহ দেওয়ানের ছেলে শাহাব আলী (২৮), একই জেলার ভবানীপুরের দিলদার আলীর ছেলে জাকির হোসেন (৩০), ময়মনসিংহের মকবুল হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৮) ও লক্ষ্মীপুরের হেদায়েত হোসেনের ছেলে আবদুল কুদ্দুস (২৪)।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার (৭ মার্চ) দুপুরে ট্রলারটি বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়ার প্রান্ত থেকে কীতর্নখোলা নদী পাড়ি দিয়ে চরমোনাই লঞ্চঘাটে আসে। এসময় ঘাটে থাকা কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের পেছনে নোঙ্গর করে চরমোনাই মাহফিলগামী মুসল্লিদের নামিয়ে দেয়। পরে নতুন যাত্রী তুলতে গিয়ে ট্রলারটি কাত হয়ে যায়। একই সময়ে পেছনে থাকা আরেকটি ট্রলার নোঙ্গর করা ট্রলারটিকে ধাক্কা দিলে সেটি ডুবে যায়।
ওই সময় স্থানীয়দের কাছ থেকে কয়েকজনের নিখোঁজের খবর পাওয়া গেলে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা নদীতে বিভিন্নভাবে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তবে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নদীর তলদেশে ট্রলারটির সন্ধান পাওয়া গেলেও নিখোঁজ ব্যক্তিদের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।








