মাদক ও অস্ত্রসহ আটক হওয়া এক কর্মীসহ তিন জনকে বাঁচাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এর একপর্যায়ে তারা ক্যাম্পাসের মূল ফটকে থাকা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ –এ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত সাড়ে ১০টা) ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী এ খবর নিশ্চিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সন্ধ্যা ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লালন শাহ হলে অভিযান চালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। এসময় হলের ১২৮ নং রুম থেকে ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিনের গ্রুপের কর্মী ও লোক প্রশাসন বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আকাশ, বহিরাগত দানিয়েলকে মাদক ও অস্ত্রসহ আটক করা হয়। ওই সময় সেখান থেকে তরিকুল নামের আরেক বহিরাগত পালিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ইবি থানা থেকে আকাশকে ছাড়িয়ে নেন।
সূত্র আরও জানায়, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের নেতাকর্মীরা লাঠি মিছিল বের করেন। এসময় মিছিল থেকে ‘প্রক্টরের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে', 'প্রশাসনের পদত্যাগ চাই' ইত্যাদি শ্লোগান দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ করেন। এর একপর্যায়ে মূল ফটকে থাকা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ –এ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এরপর পরিস্থিতি কিছুক্ষণের জন্য শান্ত হয়। পরে রাত ৮টার দিকে ছাত্রলীগ সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিনের নেতৃত্বে পুনরায় মিছিল বের হলে পরিস্থিতি আবার অশান্ত হয়ে উঠে। এসময়ও মিছিল থেকে প্রায় অর্ধ-শতাধিক ককটেল ফুটানো হয়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত ১০টা) ক্যাম্পাসে দফায় দফায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটছে।
হল সূত্র জানায়, ক্যাম্পাসে এখনও (রাত ১০টা) থেকে থেকে বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে। এ ঘটনার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিনকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি।
ইবি থানার ওসি রতন শেখ বলেন, ‘ক্যাম্পাস প্রশাসন ৯ বোতল ফেন্সিডিল এবং তিনটি চাপাতিসহ একজনকে ইবি থানায় হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় নিয়মিত আইনে মামলা হবে।’
প্রক্টর মাহবুবর রহমান বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে হলে অভিযান চালানো হয়। এসময় বিপুল পরিমাণ মাদকসহ দুই জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী বলেন, ‘মাদকের সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। আজকের ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।’








