কুড়িগ্রামের রৌমারী থানা পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়া পরা অবস্থায় দুই জুয়াড়ি পালিয়ে গেছে। ঘটনার পর থেকে তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
বুধবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ঘুঘুমারী এলাকায় একটি জুয়ার আসর থেকে ওই দুই জুয়াড়িসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করে থানায় নেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।
রৌমারী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উপজেলার চরশৌলমারী ইউনিয়নের ঘুঘুমারী এলাকায় একটি মেলার আয়োজন করে স্থানীয়রা। মেলায় জুয়ার আসর চলছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে দুপুর ১২টার দিকে রৌমারী থানার এএসআই (সহকারী উপপরিদর্শক) আবু জাফর দুই কনস্টেবলকে সঙ্গে নিয়ে মেলায় উপস্থিতি হন। এ সময় জুয়ার আসর থেকে নুর আলম (২২) ও রব্বানী মিয়া (২১) নামের দুই জুয়াড়িকে আটক করে হাতকড়া পরায় পুলিশ। তাদের আটকের পর আরও জুয়াড়িকে আটক করতে গেলে এক পুলিশ সদস্যের হাত থেকে হাতকড়া পরা অবস্থাতেই দুই জুয়াড়ি পালিয়ে যায়।
এ খবর থানায় পৌঁছানোর পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রৌমারী সার্কেল) মাহমুদ হাছানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেলায় আগতদের এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ শুরু করেন। এ সময় শহর আলী (৪০), সমেস আলী (২৯), রুবেল মিয়া (১৮), বেলাল হোসেন (১৭), সাকিল হোসেন (১৮), সাইফুল ইসলাম (২৪), শাহীন আলম (১৯) ও ছমেদ আলীকে (৩০) গ্রেফতার করে থানায় নেয় পুলিশ।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য আকলিমা বেগম ও সাবেক ইউপি সদস্য আবু সাঈদ জানান, ওই ঘটনায় পুলিশ সাধারণ কিছু মানুষকে মারপিট করেছে।
চরশৌলমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুল হক মণ্ডল বলেন, ‘আমার এবং উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই মেলার নামে ওই জুয়া খেলার আয়োজন করা হয়েছিল। সরকারি দলের কয়েকজন নেতাকর্মীর যোগসাজশে জুয়াড়িরা এ মেলার আয়োজন করেছিল বলে জানতে পেরেছি।’
এদিকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া দুই জুয়াড়িকে ধরতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের বক্তব্য নেওয়ার জন্য সাংবাদিকরা থানায় গেলে রৌমারী সার্কেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ হাছান কোনও তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
তবে এ ব্যাপারে রৌমারী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি এখনও ঘটনাস্থলে আছি। হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া দুই জুয়াড়িকে ধরার চেষ্টা চলছে।’








