গোপালগঞ্জের কৃষি জমিতে পোকা দমনের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘আলোর ফাঁদ’। এ ফাঁদ জমিতে পাতানোর ফলে কৃষকেরা বুঝতে পারছেন- কোন জমিতে কী কীটনাশক দিতে হবে। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বাঁচে, অন্যদিকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে পরিবেশ। ফলে কৃষকদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই ‘আলোর ফাঁদ’ পদ্ধতি।
গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সমীর কুমার গোস্বামী জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২০৮টি ব্লকে ২ হাজার ৭০০টি ‘আলোর ফাঁদ’ পাতানো হয়েছে। জমিতে ‘আলোর ফাঁদ’ ব্যবহার করায় ফসলে কী ধরনের কীটনাশক এবং কী পরিমাণ কীটনাশক দেওয়া দরকার তা কৃষকেরা বুঝতে পারছেন। সে অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করায় একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে কম কীটনাশক ব্যবহার করে ফসল ঘরে তুলতে পারছেন কৃষকেরা। এমনকি অনেক উপকারী পোকামাকড়ও কীটনাশকের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে। ফলে দিন দিন কৃষকরা এই কৃষিবান্ধব পদ্ধতির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
স্থানীয়রা জানায়- কৃষি নির্ভর গোপালগঞ্জে প্রতি বছর কৃষকেরা ধান, গম, পাটসহ বিভিন্ন ফসল ফলিয়ে থাকেন। কিন্তু বিভিন্ন পোকার আক্রমণে প্রতি বছই কৃষকদের ফসল উৎপাদন অনেকটা কমে যায়। ফলে পোকা দমনের জন্য বাড়তি খরচ করে না বুঝে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করেন তারা। এতে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়।
কৃষকদের কথা বিবেচনা করে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন জমিতে বসানো হয়েছে ‘আলোর ফাঁদ’। এর ফলে ক্ষতিকর ও উপকারী পোকা চিহ্নিত করে কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করার পর প্রয়োজনীয় কীটনাশক প্রয়োগ করা হচ্ছে ফসলে।
সদর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের কৃষক মো. রেজাউল ইসলাম, আসলাম শরীফ এবং চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মনির মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ‘আলোর ফাঁদ’-এর কারণে আমরা আমাদের ফসলি জমিতে পোকার ধরন চিহ্নিত করতে পারছি, নির্দিষ্ট কীটনাশক প্রয়োগ করে পুরো ক্ষেতে পোকা আক্রমণ করার আগেই ফসলের পোকা দমন করতে পারছি। ফলে বাড়তি খরচের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছি আমরা। ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা করে এই পদ্ধতি সারা জেলায় কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিলে কৃষকরা লাভবান হবেন। সেই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন বেড়ে যাবে।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মো. লিয়াকত হোসেন জানান, জমির পাশেই একটি পাত্রে পানির মধ্যে কেরোসিন ঢেলে অথবা সাবানের ফেনা তৈরি করে তার এক ফুট ওপরে আলোর ব্যবস্থা করা হয়। পোকা-মাকড় আলোর কাছে এসেই পানিতে পড়ে যায়, পরে তারা আর উঠতে পারে না। আমরা মরে যাওয়া বা পানিতে পড়া পোকা-মাকড় দেখেই বুঝতে পারি জমির এলাকায় কী ধরনের পোকা-মাকড় আক্রমণ করেছে। সে অনুযায়ী জমিতে কী ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে সে ব্যাপারে কৃষকেদের পরামর্শ দিয়ে থাকি। এতে কৃষকেরা একাধিক কীটনাশক ব্যবহার না করে নির্দিষ্ট জমিতে নির্দিষ্ট কীটনাশক ব্যবহার করতে পারেন। ফলে ফসলের উৎপাদন খরচ যেমন কম পড়ছে, আবার অন্যদিকে পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে কম।








