খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) মেয়র মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি ২০১৩ সালের নির্বাচনের আগে নগরবাসীর সেবায় ২১ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু তিনি নির্বাচনি ইশতেহারের অর্ধেকও বাস্তবায়ন করতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে মেয়র মনি জানিয়েছেন, নির্বাচিত হওয়ার পর মামলাসহ বিভিন্ন জটিলতার জন্য মেয়াদের প্রায় অর্ধেক সময় দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয়নি।
নির্বাচনি ইশতেহারের অর্ধেক বাস্তবায়নের করতে না পারার ব্যাপারে মেয়র মনি বলেন, ‘আড়াই বছর দায়িত্ব পালন করতে না পারলেও নির্বাচনি ইশতেহারের অধিকাংশই শুরু করা সম্ভব হয়েছে। অর্ধেক বাস্তবায়নও হয়েছে। বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।’
তবে কেসিসির সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, ‘নির্বাচিত হওয়ার পর মেয়র মনি ইশতেহার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছেন।’
এ প্রসঙ্গে মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ‘বিরোধীদলে থাকার কারণে রাজনীতিক মামলা ও ষড়যন্ত্রের কারণে প্রায় আড়াই বছর ক্ষমতার বাইরে থাকতে হয়েছে। যে কারণে ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, তার মেয়াদকালে খুব বেশি অর্থ বরাদ্দ আসেনি। তারপরও যেটুকু বরাদ্দ পাওয়া গেছে তা সর্ম্পর্ণ অংশ কাজে লাগানো হয়েছে। কোনও অংশই ফেরত যায়নি। প্রতিহিংসা হিসেবে সরকারি দলের নেতারা ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে মিথ্যাচার করছেন। তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে নগরবাসীকে বিভ্রান্ত করছেন।’
এ ব্যাপারে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র আলহাজ তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি বলেন, ‘বর্তমান মেয়র আড়াই বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার খোড়া অজুহাত দেখাচ্ছেন, যা যুক্তিহীন। তিনি কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। তিনি দায়িত্ব পালনকালে ইশতেহার বাস্তবায়নে গুরুত্ব না দিয়ে নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। মেয়র মনি সঠিকভাবে সিটি করপোরেশন চালাতে ব্যর্থ হয়েছেন।’
মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের সময় সরকার কেসিসির উন্নয়নে যে বরাদ্দ দিয়েছিল, বর্তমান মেয়রের সময় তার অর্ধেকও বরাদ্দ দেয়নি। সরকার মেয়রের পদ মর্যাদা কমিয়ে, মিথ্যা মামলা দিয়ে, হুলিয়া জারি করে, জেলে আটকে রেখে, আড়াই বছর ক্ষমতার বাইরে রেখে খুলনাবাসীকে নাগরিক সেবা প্রদান থেকে বঞ্চিত করেছে।’
জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু বলেন, ‘২১ দফা ইশতেহারের অধিকাংশই মেয়র মনি বাস্তবায়ন করতে পারেননি। ক্লিন সিটি গড়ার বিষয়টি শুধু ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। জলাবদ্ধতা নিরসনে কেসিসি তেমন কোনও ভূমিকা রাখতে পারেনি। মশার উপদ্রবও চরমে।’
এ ব্যাপারে মহানগর কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু বলেন, ‘নগরীতে পানি সংকট চরমে। পানির লেয়ার নিচে নেমে গেছে। এক্ষেত্রে ওয়াসা-কেসিসির মধ্যে সমন্বয় করে পানির সমস্যা সমাধানে কোনও উদ্যোগ নেই। বর্ষার সময় নগরবাসী জলাবদ্ধতার শিকার হয়। জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।’
জেলা স্বাস্থ্যসেবা গ্রহীতা ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যানজট নিয়ন্ত্রণে ইজিবাইককে আইনের আওতায় আনতে পারেনি কেসিসি। কেডিএ-কেসিসি আর ওয়াসার সমন্বয়হীনতার কারণে নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। মশার ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে দেওয়া হচ্ছে না।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর মহানগর কমিটির সভাপতি ভাষাসৈনিক আলহাজ লোকমান হাকিম বলেন, পানির জন্য হাহাকার আর সড়ক খোড়াখুড়ির ভোগান্তি থেকে মুক্ত করতে কেসিসি-ওয়াসা সমন্বয় জরুরি ছিল। খাল দখলমুক্ত করার উদ্যোগ থেমে থাকার কারণে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নগরবাসী জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রাণের কোনও লক্ষণ নেই।’








