সড়কে কুড়িয়ে পাওয়া একলাখ টাকা মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছেন ফিরোজ মিয়া (৩৭) নামের এক অটো-রিকশার চালক। বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা সংলগ্ন সড়ক থেকে কুড়িয়ে পাওয়া ওই টাকা রাত ৯টার দিকে মালিকের হাতে তুলে দেন তিনি।
সততার পরিচয় দেওয়া ফিরোজ মিয়া নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার মাইপুকুরিয়া গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে। তিনি তার বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া বাজারের পাশে একটি বাড়িতে ভাড়ায় থাকেন।
ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে শ্রীপুর-মাওনা সড়কের কেওয়া বাজার থেকে অটোরিকশা চালিয়ে চৌরাস্তার দিকে যাচ্ছিলাম। এসময় চৌরাস্তা সংলগ্ন সড়কে রাবার দিয়ে প্যাঁচানো টাকার একটি বান্ডিল দেখতে পাই। পরে ওই বান্ডিল হাতে নিয়ে দেখি, এক হাজার টাকার অনেকগুলো নোট।’
ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘টাকাগুলো পাওয়ার পর তা কার কাছে দেবো, এ নিয়ে ভাবনায় পড়ে যাই। পরে অনেক ভেবে-চিন্তে মাওনা চৌরাস্তা সংলগ্ন সড়কের পাশের ‘মায়ের দোয়া টাইলস অ্যান্ড সেনেটারি’ দোকানের মালিক মুজিবুর রহমানের কাছে তা জমা দিই।’
দোকান মালিক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ফিরোজ মিয়া সড়কে টাকা কুড়িয়ে পেয়ে আমার কাছে এনে তা জমা দেন। তিনি টাকাগুলো গুণেও দেখেননি। তবে আমি গুণে দেখি, বান্ডিলে একলাখ টাকা রয়েছে। এর মধ্যে ৯৯টি একহাজার টাকার নোট ও দু’টি পাঁচশ’ টাকার নোট ছিল। ফিরোজ মিয়া আমার কাছে টাকা রেখে চলে যান। বুদ্ধি করে আমি তার মোবাইল ফোন নম্বর রেখে দিই। সন্ধ্যায় আমার ছেলে মহসীন ফোনে ফিরোজ মিয়াকে ডেকে আনে এবং এরপর তারা দুজনে মিলে টাকাটা থানায় জমা দিয়ে আসে।’
মুজিবুর রহমানের ছেলে মহসীন বলেন, ‘বিকাল পর্যন্ত কেউ টাকার খোঁজ করেনি। এতে সন্ধ্যার দিকে ফোন দিয়ে ফিরোজ মিয়াকে ডেকে আনি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আমি ও ফিরোজ মিয়া টাকাটা থানায় জমা দিই। পরে রাত ৯টার দিকে আমাদের উপস্থিতিতে শ্রীপুর থানার ওসি-অপারেশন হেলাল উদ্দিন টাকার মালিক আব্দুল মান্নান শিকদারের (৩৭) হাতে তা তুলে দেন।’
আব্দুল মান্নান শিকদার শ্রীপুর পৌর এলাকার বৈরাগীরচালা গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে। তিনি জানান, টাকা হারানোর পর এ নিয়ে তার ফেসবুক ওয়ালে স্ট্যাটাস দেন। তিনি বলেন, ‘সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে করে মাওনা চৌরাস্তা সংলগ্ন এক্সিম ব্যাংকে মাসিক কিস্তির একলাখ টাকা জমা দিতে যাচ্ছিলাম। ওই সময় টাকার বান্ডেলটি পায়জামার পকেটে ছিল। ব্যাংকে ঢুকে পকেটে হাত দিয়ে দেখি, টাকার বান্ডেল নেই!’
তিনি আরও বলেন, ‘পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর টাকা না পেয়ে বিকাল ৪টার দিকে এ ঘটনা শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কায়সার আহমেদকে জানাই। তার পরামর্শে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আমি শ্রীপুর থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করি। পরে রাত ৯টার দিকে পুরো টাকাটা ফেরত পাই। ফিরোজ মিয়ার সততায় আমি মুগ্ধ।’
ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আব্দুল মান্নান শিকদার টাকার প্রকৃত মালিক, এটা নিশ্চিত হওয়ার পর তার হাতে একলাখ টাকা তুলে দেওয়া হয়। এসময় ফিরোজ মিয়াও উপস্থিত ছিলেন। পরে মান্নান শিকদার পুরস্কার হিসেবে ফিরোজ মিয়ার হাতে ১৫ হাজার টাকা তুলে দেন।’
শ্রীপুর-কালিয়াকৈর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শাহিদুল হক বলেন, ‘রাতেই টাকাটা প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ফিরোজ মিয়ার সততার তুলনা নেই।’








