হত্যার দুই বছর পর আসামি গ্রেফতার, আদালতে জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
১৪ এপ্রিল ২০১৮, ২৩:০০আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০১৮, ২৩:০৭

রাকিব বেপারী

চট্টগ্রামে আবুল খায়ের গ্রুপের স্টার শিপ ফ্যাক্টরির মানবসম্পদ বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপককে কুপিয়ে হত্যার দুই বছর পর ঢাকার মিরপুর থেকে রাকিব বেপারী (২৪) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৩ এপ্রিল) মিরপুরের শাহ আলী থানাধীন মেঘনা স্টোর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলা তদন্ত কর্মকর্তা বায়েজিদ থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আইয়ুব উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হত্যা মামলায় গ্রেফতার আসামি শনিবার (১৪ এপ্রিল) অপরাধ শিকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও তিনি জানান।

গ্রেফতার রাকিব বেপারী ফরিদপুর জেলার সদরপুরের ভাষানচর এলাকার বেপারী বাড়ির বাসিন্দা কালাম বেপারীর ছেলে।

এসআই আইয়ুব উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কাজে ক্রুটি পেয়ে বকাঝকা করায় ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর স্টার শিপ ফ্যাক্টরির মানবসম্পদ বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. শাহাদাত হোসেন ভূইয়াকে মাথায় কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রাকিবসহ আরও তিন জন। দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদাত হোসেন মারা যান। এ ঘটনায় ২৮ ডিসেম্বর স্টার শিপ ফ্যাক্টরির মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা মো. নুরুল আবসার বাদী হয়ে গ্রেফতার রাকিবসহ চার জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় দীর্ঘ দিন পলাতক থাকার পর শুক্রবার ঢাকার মিরপুর থেকে রাকিবকে গ্রেফতার করেছি। সে আজ (১৪ ডিসেম্বর) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।’

এ মামলার বাকি তিন আসামি পলাতক। তারা হলেন– নোয়াখালী জেলার কবিরহাট এলাকার রবিউল আলম (২২), পটুয়াখালীর বাউফল এলাকার সাব্বির হোসেন (২০) ও ঢাকার নবাবগঞ্জের মো. মমিনুল ইসলাম ওরফে মিঠু (৩৮)।

এসআই আইয়ুব উদ্দিন বলেন, ‘জবানবন্দিতে রাকিব বেপারী জানায়, ২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর স্টার শিপ কারখানায় সে, আমিন ও মিঠু কাজ করছিল। ওইদিন শাহাদাত হোসেনসহ আরও তিন জন তাদের কাজ তদারকি করার জন্য কারখানায় আসেন। এসময় কারখানার ফ্লোরে ওয়েল্ডিংয়ের দাগ দেখে শাহাদাত হোসেন তাদের বকাঝকা করেন। এর একপর্যায়ে শাহাদাত হোসেনসহ অপর দুই জন তাদের লোহার অ্যাংগেল দিয়ে মারধর করেন। এতে মিঠু গুরুতর আহত হয়। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছিল।’

এসআই আইয়ুব উদ্দিন আরও বলেন, ‘এ ঘটনার পর রাকিব ও বাকি তিন জন সিদ্ধান্ত নেয়, ওই কারখানায় আর কাজ করবে না এবং সুযোগ পেলে যারা তাদের মারধর করেছে তাদের মেরে চলে যাবো। পরদিন ২৮ ডিসেম্বর তারা ওই কারখানায় কাজ করতে যায়। কাজ করার এক পর্যায়ে দেখে, আমিন একটি বাঁকা দা ও সাব্বির একটি ফ্ল্যাটবার নিয়ে দৌড়ে যাচ্ছে। এসময় আমিন ও সাব্বির রাকিবকেও যেতে বলে। পরে রাকিব দৌড়ে গিয়ে দেখে, আমিন ও সাব্বির ওয়ার্কশপের সামনে শাহাদাত হোসেনকে তাদের হাতে থাকা দা এবং লোহার ফ্ল্যাটবার দিয়ে আঘাত করছে। দৌড়ে গিয়ে রাকিবও একটি লাঠি দিয়ে শাহাদাত হোসেনকে বাড়ি দেয়। মিঠু নামের অপর আসামি তাদের পেছন পেছন গেলেও শাহাদাত হোসেনকে মারধর করেনি।’

 

/এমএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম