কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে কালবৈশাখীর ঝড়ের আঘাতে দুই ইউনিয়নের শতাধিক ঘরবাড়ি ও আবাদি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসময় ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরের চালা খুলে টিনের আঘাতে অন্তত ৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ঝড়ো হাওয়াসহ শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে শিলাবৃষ্টি থামলেও বেশ কিছু সময় ধরে কালবৈশাখীর তাণ্ডব চলে। ফলে উপজেলার ধর্মপুর, কাশিপুর, অনন্তপুর, উত্তর অনন্তপুর, খালিশাকোটাল এলাকার প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। ঝড়ের আঘাতে ভেঙে যায় ওইসব এলাকার বেশ কিছু আম ও সুপারির গাছ।
ঝড়ে ঘরের টিনের চাল খুলে পড়ে মারাত্মক আহত হন অনন্তপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৩৭), নওশাদ আলী (৩৯), মজনু মিয়ার স্ত্রী মল্লিকা খাতুন, আমির হোসেনের স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন (৩২), আফছার আলীর স্ত্রী লাইজু খাতুন (২২)।
কাশিপুর ইউনিয়নের উত্তর অনন্তপুরের আনোয়ারা ও লাইজু বেগম ঝড়ে বিধ্বস্ত ঘর নিয়ে এখন দিশেহারা। খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হয়েছে তাদের।
লাইজু বলেন, ‘বাতাসে ঘর উড়ি নিয়া গেইছে। খোলা জাগাত রাইত কাটাছি। কোটে থাইকমো কবার পাই না। চেয়ারম্যান হামাক দেখি গেইছে, এলাও কোনও সাহায্য পাই নাই।’
কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন মণ্ডল বলেন, ‘তার ইউনিয়নে কালবৈশাখী ঝড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ে ঘর হারিয়ে অনেকে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছে। ঝড়ে বিভিন্নভাবে আঘাত পেয়ে আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচ জন।’ ঝড়ে ঘরবাড়ি ছাড়াও ফসল ও গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান এই চেয়ারম্যান।
নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুসাব্বের আলী মুসা জানান,খলিশাকোঠাল গ্রামের কয়েকটি বাড়ি কালবৈশাখীর ঝড়ে ভেঙে গেছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও জানান, শুক্রবার রাতে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার দু-একটি ইউনিয়নে বেশ কিছু বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। আমি কিছু ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পরিদর্শন করেছি। যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার তালিকা করা হচ্ছে। তালিকা পেলে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হবে।








