সারাদেশের মানুষ যখন সবকিছু ভুলে বর্ষবরণের উল্লাসে মেতে উঠেছে, ঠিক তখনও ৬৫ বছরের বৃদ্ধ মির্জা শাজাহান তারুণ্যদীপ্ত মনোবল নিয়ে টাঙ্গাইলে রূপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে দৌড়াচ্ছিলেন। শনিবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইল আদালত চত্বরসহ পৌর এলাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক দৌড়েছেন তিনি।
গত বছরের ২৫ আগস্ট টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ঢাকা আইডিয়াল ‘ল’ কলেজের ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার পর থেকেই প্রতিবাদ করে যাচ্ছেন শাহজাহান। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জনমত সৃষ্টি করবেন।
এ ঘটনায় মধুপুর থানায় মামলার পর আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে দৌড় শুরু করেন শাহজাহান। এরপর প্রতি বুধবার আদালত এলাকা থেকে শুরু করে ‘রূপা হত্যার বিচার চাই- লেখা ফেস্টুন নিয়ে’ শহরের বিভিন্ন এলাকায় দৌড়ান তিনি। কখনও দৌড়ে কখনও বাই-সাইকেল নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়ান তিনি। স্থানীয়রাও তার সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেন। ঘটনার পর মাত্র ১৪ কর্মদিবসের মধ্যে মামলার রায় হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে মির্জা শাহজাহান। তবে তার দৌড় থামেনি। এ রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত দৌড়াবেন বলেও জানান তিনি।
এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ধূমপানের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে দৌড়ে যাচ্ছেন শাহজাহান। আমৃত্যু এধরনের কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মির্জা শাহজাহান বাসাইল উপজেলার একঢালা গ্রামের মৃত মির্জা হানিফ উদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইল শহরের থানাপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে জাকিয়া সুলতানা রূপাকে চলন্ত বাসে ধর্ষণ করে পরিবহণ শ্রমিকরা। বাসেই তাকে হত্যার পর মধুপুর উপজেলার পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে মরদেহ ফেলে রেখে যায়। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাত পরিচয় নারী হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে রূপার মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি রূপা হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির মধ্যে ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫), জাহাঙ্গীর (১৯), চালক হাবিবুর (৪৫)-কে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। অপর আসামি ওই পরিবহনের সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫)-কে সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়া। সেই সঙ্গে সফর আলীকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। ওই অর্থ নিহত রূপার পরিবারকে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও অপরাধ সংগঠনের কাজে ব্যবহৃত ছোঁয়া পরিবহন ( ঢাকা-মেট্রো-ব -১৪-৩৯৬৩) ওই বাসটিও ক্ষতিপূরণ হিসেবে নিহতের পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।








