একমাত্র ছেলের অপেক্ষায় চোখের জলে সাতটি বছর কাটিয়ে দিলেন টাঙ্গাইলের সখীপুরের এক দম্পতি। সন্তান জীবিত না মৃত, তাও জানেন না তারা। তাদের বিরস চেহারায় ব্যাকুল প্রতীক্ষার ছাপ। আর সরল চোখে অবুঝ আকুতি— কখন ফিরবে ছেলে, নাকি আর ফিরবেই না।
সন্তানের অপেক্ষায় থাকা এই দম্পতি হলেন– কানাই লাল চন্দ্র শীল ও চায়না রাণী। সখীপুর পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের ঘান্ধিনাপাড়ার বাসিন্দা তারা। কানাই লাল চন্দ্র শীল জানান, ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর রাতে তাদের কলেজ পড়ুয়া ছেলে সত্য চন্দ্র শীল অভিমান করে বাড়ি ছাড়ে। এরপর প্রায় সাত বছর কেটে গেছে, কিন্তু সে আর ফিরেনি।
তিনি বলেন, ‘একদিন হঠাৎ সামান্য এক বিষয় নিয়ে অভিমান করে সবার অজান্তে বাড়ি ছাড়ে সত্য চন্দ্র শীল। তারপর সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজেও তার সন্ধান মেলেনি। অভাব-অনটনের মাঝেও স্বপ্ন ছিল, তাকে লেখাপড়া শিখিয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার।’
তিনি জানান, ছেলে বাড়িছাড়ার পরপরই এ নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সখীপুর থানায় করা ওই জিডির নম্বর– ৪৬২। চোখ ভরে আসা জল লুকিয়ে ধরা গলায় কানাই লাল চন্দ্র শীল বলেন, ‘সত্য চন্দ্র শীল বাড়িছাড়ার পর ছেলের মা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এখনও সে শয্যাশায়ী।’
সখীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত শিকদার বলেন, ‘দীর্ঘদিন আগে ছেলেটি রাগ করে বাড়ি থেকে চলে যায়। পরিবার অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি।’
স্থানীয় কাউন্সিলর শেখ জামাল হোসেন বলেন, ‘অনেকদিন ধরে কানাই লাল চন্দ্র শীলের ছেলেকে পাওয়া যাচ্ছে না। ছেলেটি ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে তার মা-বাবা।’
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘ছেলেটির পরিবার জিডি করেছিল। পুলিশ এখনও ছেলেটিকে খোঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।’








