নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় টিপু সুলতান নামে একটি ইউনিয়নের ছাত্রলীগ সভাপতি গত পাঁচদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি,পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে অপহরণ করা হয়েছে। তবে এই দাবি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। পুলিশ বলছে, নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
নিখোঁজ টিপু সুলতান (২০) উপজেলার ফাগুয়াড়দিয়া ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি এবং একই ইউনিয়নের সাইলকোনা গ্রামের শাহজাহান আলী এবং নিলুফা ইয়াসমিনের ছেলে।
এদিকে, শনিবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে টিপু সুলতানকে উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা টিপুকে উদ্ধারে প্রশাসনের উদ্দেশে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঘোষণা করে। অন্যথায়, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়।
শনিবার সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় মালঞ্চি বাজার এলাকায় এই মানববন্ধনের আয়োজন করে উপজেলা ছাত্রলীগ। এসময় পৌর ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন— উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি তৌফিকুর রহমান শ্রাবণ, যুবলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক এসএম সাদেকুর রহমান, যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা আবু হানিফ, রাসেল মাহমুদ ও জিল্লুর রহমান।
বক্তারা দাবি করেন, টিপু সুলতানকে অক্ষত অবস্থায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফেরত দিতে হবে। প্রশাসন এতে ব্যর্থ হলে লাগাতার বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে।এসময় বক্তারা টিপুর অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি করেন।
টিপু সুলতানের বাবা শাহজাহান আলী ও মা নিলুফার ইয়াসমিন অভিযোগ করেন, গত ২৪ এপ্রিল সকালে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বাড়ি থেকে স্থানীয় সাইলকোনা বাজারের উদ্দেশে বের হয় টিপু সুলতান। এসময় তাকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত। এরপর থেকে তার দুটি ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও সন্ধান না পাওয়ায় গত ২৬ এপ্রিল রাতে বাগাতিপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন শাহজাহান আলী।কিন্তু এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত টিপু সুলতানের কোনও খোঁজ পায়নি পুলিশ।
এক প্রশ্নের জবাবে টিপু সুলতানের মা নিলুফার ইয়াসমিন জানান, সম্প্রতি ফাগুয়াড়দিয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম ও সাইলকোনা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেনের সঙ্গে স্কুলের একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে টিপু সুলতানের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর বাইরে কারও সঙ্গে তার শত্রুতা ছিল বলে তাদের জানা নেই।
এব্যাপারে সাইলকোনা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেন দাবি করেন, গত ৯ এপ্রিল বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদকে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করা হলেও তিনি স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এমপিকে কেন দাওয়াত করা হয়নি জানতে চেয়ে ৭ এপ্রিল অফিসে এসেছিলেন টিপুসহ অনেকেই। তাদেরকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হয়েছে।এনিয়ে টিপুর সঙ্গে তার কোনও বিরোধ বা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফাগুয়াড়দিয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘টিপু সুলতানের সঙ্গে তাদের কোনও বিরোধ নেই। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছাড়াও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়া, সাইলকোনা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। তবে ৭ এপ্রিল প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে টিপুর কথা হয়েছে, কিন্তু কোনও তর্কাতর্কি বা দ্বন্দ্ব হয়নি।
তিনি দাবি করেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে তিনিই চেষ্টা চালিয়ে টিপুকে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি করিয়েছেন। এক্ষেত্রে টিপু তার রাজনৈতিক কোনও প্রতিপক্ষও না। সুতরাং টিপুর সঙ্গে তার দ্বন্দ্বের কোনও প্রশ্নই ওঠে না।
বাগাতিপাড়া থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন সাধারণ ডায়েরির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, টিপু সুলতানকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।








