গত কয়েকদিনে তিন দফা কালবৈশাখী ঝড় আর শিলাবৃষ্টিতে চলতি ইরি-বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগের মতে, এর ফলে ধানের ফলন কমবে এবং ধান কাটার শ্রমিক খরচ বেড়ে যাবে। সব মিলিয়ে কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।
নওগাঁ জেলা সদর, মান্দা, বদলগাছি, পত্নীতলা, ধামইরহাট উপজেলার ওপর দিয়ে গত কয়েকদিনে কয়েকদফা কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। কোথাও কোথাও বড় ধরনের শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে এসব এলাকার বেশির ভাগ জমির আধাপাকা ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে। অসময়ের বৃষ্টির পানি জমা হয়ে কোথাও কোথাও ধানের শীষ পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে গেছে। একদিকে শিলাবৃষ্টির ফলে উঠতি ধানের বেশির ভাগই ঝড়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়েও ধান নষ্ট হয়েছে। রানীনগর উপজেলার রক্তদহ বিলের প্রায় ৫০ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এই বিলে পানি বেড়েই চলেছে। ফলে ক্ষতির এই পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে।
কৃষকরা বলছেন, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সৃষ্ট ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে হিমশিম খেতে হবে তাদের। যেসব জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে সেসব জমি থেকে ধান ঘরে তুলতে পারবেন না বলে তাদের আশঙ্কা হচ্ছে। বছরের অন্যতম ফসল হারিয়ে কীভাবে দিন চলবে তাই ভেবে এখন আতঙ্কিত কৃষকরা। এসব এলাকায় ভিন্ন জেলা থেকে ধান কাটতে আসা শ্রমিকদের অনেকে ধান কাটতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন।
কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, ‘এ বছর শুরু থেকেই কালবৈশাখীর প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কয়েকদিনের কালবৈশাখী ঝড় এবং শিলাবৃষ্টিতে কোনও কোনও এলাকার ধানের ক্ষতি হয়েছে। রানীনগরের রক্তদহ বিলে বৃষ্টির পানি জমা হয়ে কিছু উঠতি পাকা ধান ডুবে গেছে। এতে এসব এলাকায় ফলন কিছুটা কম উঠবে। অপরদিকে ঝড়ে ধান এলোপাতাড়িভাবে মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ায় তা কাটতে লেবার খরচ বেড়ে যাবে। এতে কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির শিকার হতে পারেন।’ চলতি বোরো মৌসুমে নওগাঁ জেলায় মোট ১ লাখ ৯১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন- ব্লাস্ট আর ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ধানক্ষেত, দিশেহারা কৃষক







