সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে পাঠদান!

মতিউর রহমান, মানিকগঞ্জ
০২ মে ২০১৮, ০৭:৩৩আপডেট : ০২ মে ২০১৮, ১৩:৪৫

 

 



কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মানিকগঞ্জ পৌরসভা এলাকার কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের চারপাশ সবুজ গাছপালায় ঘেরা। আঙিনা ঘেঁষে পিচঢালা পথ। আছে খেলার মাঠ। কিন্তু বিদ্যালয়টিতে নেই শিক্ষার্থীদের জন্য সুব্যবস্থা। পর্যাপ্ত বেঞ্চ নেই। দরজা-জানালার প্রায় সবই ভাঙা। বৃষ্টি হলে আর রক্ষা নেই! বই-খাতা ভিজে একাকার। স্কুলের ভাঙাচোরা টিনের বেড়া দিয়ে যাওয়া-আসা করে কুকুর-ছাগল। যেন দেখার কেউ নেই। আর যেটি নেই, তা হচ্ছে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা। সরকারি স্কুলে চাকরি করছেন, অথচ শিক্ষকেরা বেতন পান না এক টাকাও। বিদ্যালয়টির সব শিক্ষক নিজের খেয়ে ১৭ বছর ধরে বিদ্যালয়টিকে টিকিয়ে রেখেছেন।



সম্প্রতি কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে কথা হয় শিক্ষিকা শ্যামলী রানী সরকারের সঙ্গে। তিনি ২০০১ সাল থেকে এ বিদ্যালয়ে আছেন। শহরের পোড়রা এলাকা থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ হেঁটে নিত্যদিন সরকারি নিয়ম মেনে স্কুলে আসেন। আর যানও সরকারি রুটিনমাফিক। এর কোনও হেরফের হয় না। বিনাবেতনে নিজের খেয়ে সংসারে সময় না দিয়ে কি জন্য স্কুলে আসেন, জানতে চাই তার কাছে। তিনি বলেন, ‘সংসার সাগরে দুঃখ তরঙ্গের খেলা, আশা তার একমাত্র ভেলা।’ এ কথার ব্যাখ্যা দেন এভাবে, ‘জীবনের চরম বিপর্যয়ের দিনগুলোতেও মানুষ আশায় বুক বাঁধে। সংসার সাগরে একদিকে দুঃখ খেলা করে, অন্যদিকে সে খেলায় টিকে থাকার জন্য মানুষের অবলম্বন আশা। ঠিক আমার মতো আরও তিন শিক্ষকও এভাবে নিজের খেয়ে কোমলমতি শিশুদের লেখাপড়া শেখানো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।’
শ্যামলী ছাড়া অন্য তিন শিক্ষক শেফালী আক্তার, রেহেনা ইয়াসমিন ও জাহানারা আক্তারের সঙ্গেও কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা নিজেদের বিনাবেতনে চাকরির কথা জানাতে গিয়ে তুলে ধরলেন পৌরসভা এলাকার মধ্যে স্থাপিত বিদ্যালয়টির করুণ চিত্র।
কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ১৯৯৬ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়টিতে যোগদানের পর প্রথমে ১০০ টাকা, পরে সর্বসাকল্যে সম্মানী ভাতা পেতেন ২০০ টাকা করে। তাদের সেই সম্মানী ভাতা দিতেন মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. রমজান আলী। কিন্তু ২০১৪ সালে কদমতলী বেসরকারি স্কুলটি জাতীয়করণ হওয়ায় মাসিক ২০০ টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেন তিনি। এরপর ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত একটি টাকাও তারা বেতন হিসেবে পাননি।
তারা জানান, এক মাস আগেও চারজন শিক্ষক ছিলেন। এক মাস হলো চলতি দায়িত্বে একজনকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের সবাই নারী।
শিক্ষকেরা জানালেন, চার কক্ষের টিনশেড স্কুলের তিন কক্ষে চলে পাঠদান। তিন কক্ষে রয়েছে মোট ১৬ জোড়া বেঞ্চ। দুই শিফটের স্কুলে ক্লাস চলে। ১০ জন যদি বসে থাকে বাকিরা দাঁড়িয়ে ক্লাস করে। এভাবে চলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা।
স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, জাতীয় পতাকা টানানোর জায়গা নেই। বাঁশের কঞ্চির সঙ্গে গাছের মধ্যে জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয়েছে।
কথা হয় ওই বিদ্যালয়ের সাব ক্লাস্টার শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে। তিনি জানান, সরকারের তৃতীয় ধাপে স্কুলটি জাতীয়করণ করা হয়েছে। শিক্ষকরা কেন বেতন পাচ্ছেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানালেন, অর্থ ছাড়ের বিষয়টি তারা সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠিয়েছেন। এটা চলমান প্রক্রিয়া। সমাধান অল্প সময়ের মধ্যে হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিদ্যালয়ের ভবন নড়বড়ে, দরজা-জানালা ভাঙা। কবে নাগাদ এসব মেরামত হতে পারে বা বিদ্যালয় ভবনটি পাকা হতে পারে জানতে চাইলে এই দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানালেন, এ প্রস্তাবও তারা পাঠিয়েছেন।

 

 

/এইচআই/চেক-এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম