রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাকে হত্যার ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই ফের হত্যাকাণ্ড ঘটলো পাহাড়ে। শক্তিমানের দাহক্রিয়ায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হলেন ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক এর নেতাকর্মীরা। সংগঠনের শীর্ষ নেতা ও আহ্বায়ক তপনজ্যোতি চাকমা বর্মাসহ অন্তত পাঁচ জন নিহত ও ৯ জন আহত হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য বিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) কে দায়ী করেছে ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক।
ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক এর মিডিয়া উইংয়ের দায়িত্বে থাকা লিটন চাকমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ইউপিডিএফ দায়ী। শক্তিমান চাকমাকে হত্যার পর তপনজ্যোতি চাকমা বর্মাকে হত্যার মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে একক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় ইউপিডিএফ। এর জন্য তারা একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে।’
রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবিরও নানিয়ারচর-মহালছড়ি সীমান্তে একটি হামলায় পাঁচ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহত ও নিহতরা সবাই শক্তিমান চাকমার দাহক্রিয়ায় যোগ দিতে সেখানে যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন হামলায় আহতরা। আহতদের মধ্যে আটজনকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত তিন জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) শীর্ষ নেতা সুদর্শন চাকমা।
আহতরা জানিয়েছেন, শক্তিমান চাকমার দাহক্রিয়ায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে কেরেঙ্গাছড়ি এলাকায় তাদের গাড়িবহরে গুলিবর্ষণ শুরু করে দুর্বৃত্তরা। এসময় বেপরোয়া গুলি বর্ষণে ঘটনাস্থলেই তিন জন ও পরে আরও দুই জন নিহত হন। আহত হন অনেকেই। হতাহতদের মধ্যে রয়েছেন সম্প্রতি ইউপিডিএফ থেকে বেরিয়ে গিয়ে নতুন দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক এর নেতাকর্মীরা।
আরও পড়ুন-
রাঙামাটিতে সন্ত্রাসী হামলায় ইউপিডিএফের তিন সদস্য নিহত, গুলিবিদ্ধ ৯
'ইউপিডিএফ নেতাদের নির্দেশে লক্কোচ চাকমা হত্যা করে শক্তিমানকে'








