রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় জঙ্গি হামলায় নিহত ফায়ার সার্ভিস কর্মী আবদুল মতিনের পরিবারকে সম্মাননা জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফায়ার ফাইটার্স ডে উপলক্ষে শুক্রবার (৪ মে) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে এই সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রাজশাহী জেলা প্রশাসক এসএম আবদুল কাদের নিহত আবদুল মতিনের স্ত্রী তানজিলা বেগম ও ছেলে মারুফ হোসেনের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
২০১৭ সালের ১১ মে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বেনীপুর গ্রামের একটি বাড়িতে জঙ্গিবিরোধী অপারেশন ‘সান ডেভিল’ পরিচালনা করে পুলিশ। এতে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। অভিযানের শুরুতে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু এতে সাড়া মিলছিল না। তখন ফায়ার সার্ভিস বাহিনীর কর্মীরা পানি ছিটিয়ে বাড়িটির একপাশের মাটির দেয়াল ধসিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করেন। এ সময় ওই বাড়ি থেকে পাঁচ জঙ্গি বের হয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। ফায়ার সার্ভিস বাহিনীর কর্মী ও গোদাগাড়ী উপজেলার উড়ানপাড়া এলাকা আবদুল মতিনকে হাঁসুয়া দিয়ে নির্মমভাবে কোপায় এক নারী জঙ্গি। এতে আবদুল মতিন নিহত হন।
শুক্রবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর দফতরের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন সহকারী পরিচালক আহসানুল কবির।
অনুষ্ঠান শেষে সেখানে মহড়ায় অংশ নেন দমকল বাহিনীর কর্মীরা। স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফরহাদ হোসেন মহড়া পরিচালনা করেন।
জেলা প্রশাসক আবদুল কাদের বলেন, ফায়ার সার্ভিস বাহিনীর কর্মীরা মানুষের জীবন বাঁচাতে কাজ করেন। অনেক সময় এতে নিজেদেরই জীবন দিতে হয়। নিহত ফায়ার সার্ভিস কর্মী আবদুল মতিন এমনই একজন মানুষ। দেশের জন্য তার অবদান নিশ্চয় মানুষ মনে রাখবে। ফায়ার সার্ভিসও তার অবদান স্বীকার করে তাকে যথাযথ মর্যাদা দেবে। এই প্রত্যাশা করি।
তিনি আরও বলেন, মানুষের জন্য কিছু করায় আনন্দ ও তৃপ্তি আছে। যা অন্য কোনও কাজে নেই। আর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মানুষের জন্য কিছু করে। আগুন লাগলে মানুষ যখন তাদের জীবন বাঁচাতে নিজেদের সম্পদ ফেলে পালিয়ে যায়। তখন ফায়ার ফাইটাররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের সম্পদ বাঁচাতে আগুন নেভাতে কাজ করে। আগুন নেভানোসহ বিভিন্ন দুর্যোগে কাজ করতে গিয়ে অনেক ফায়ার ফাইটার আহত বা নিহত হন।
জেলা প্রশাসক এস এম আবদুল কাদের বলেন, শেষ সময়ে সবাই সমান। কিন্তু মানুষ সারা জীবন তাকেই মনে রাখে, যিনি মানুষের জন্য কিছু কাজ করেন। পৃথিবীতে কী কাজ করলাম, এটা চিন্তা করতে হবে। প্রতিটি ধর্মে আছে সেবা করার কথা। মানুষের সেবা করতে হবে। জনগণকে সম্মান দিতে হবে। কারণ জনগণের টাকায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন হয়। সরকারি অফিসগুলোতে যেভাবে সেবা পাওয়ার কথা সেভাবে সেবা পাচ্ছে না জনগণ। এ সেবার মান বৃদ্ধি করতে হবে। আর এজন্য নিজেকে সংশোধন করতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে হবে।








