হাইকোর্টের নির্দেশে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন স্থগিতে হাইকোর্টের আদেশের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এটাকে ‘সরকারের যড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
রবিবার (৫ মে) বিকালে হাইকোর্ট গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ দেন।
গাজীপুরে বিএনপি জেলা কার্যালয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল নির্বাচন স্থগিতের বিষয়টিকে অ্যাটর্নি জেনারেল ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ষড়যন্ত্র দাবি করে বলেন, ‘নির্বাচন স্থগিতের মাধ্যমে সরকার জাতির সামনে একটি নোংরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ সিদ্ধান্ত আমরা প্রত্যাখান করেছি। আমরা এর জন্য ধিক্কার ও নিন্দা জানাই।’
তিনি বলেন, ‘আমারা ধানের গোলা ঘরে তুলতে চেয়েছিলাম। সরকার আপাতত তা দখল করে নিয়েছে। সরকারের গোয়েন্দা রিপোর্টে হয়তো বলা হয়েছে সিল মেরে ও ব্যালট কেটে ২-৩ লাখ ভোটের ব্যবধান পূরণ করা সম্ভব নয়। আর এ কারণে সরকার এ অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। আইনি লড়াই ও জনগণের ধিক্কারের মাধ্যমে আমরা আমাদের অধিকার আদায় করবো।’
গাজীপুর জেলা বিএনপি’র শিল্প বিষয়ক সম্পাদক এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সারাদেশের মতো গাজীপুরের মানুষও আওয়ামী লীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। নিশ্চিত পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচার জন্য আওয়ামী লীগ আদালতকে ব্যবহার করেছে। আদালতের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। আশা করি যথাসময়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ করে দেবে।’
এদিকে নির্বাচন স্থগিতে হাইকোর্টের আদেশের পরও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। রবিবার বিকেল ৫টায় মহানগরের টিঅ্যান্ডটি বাসস্ট্যান্ডের সামনের পথসভায় বক্তব্য দেন রেলওয়ে শ্রমিকলীগের কার্যকরী সভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগ নেতা শওকত মাহমুদ, শুকুর আহমেদ, গাজীপুর মহানগর মহিলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক জুলেখা আক্তার ঝুমুর প্রমুখ।
পথসভায় শ্রমিকলীগের নেতারা বলেন, ‘স্থগিতের আদেশ আদালতের। এটি মানতে হবে। তবে আওয়ামী লীগ জনগণের দল। গণসংযোগ আওয়ামী লীগের সবসময়ের কাজ। এ কাজে আদালতের কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই।’
ভোটাদের হতাশা
মহানগরের চান্দনা এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী নাজমুল হক বলেন,‘এ মুহূর্তে নির্বাচন স্থগিত না করে ভোটটা দিয়ে দিলেই ভালো হতো। মানুষ অনেক আশা করে বসেছিল ১৫ মে ভোট দিয়ে তাদের প্রার্থী নির্বাচন করবে।’ সর্বোপরি আদালতের আদেশ মানতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কোনাবাড়ী এলাকার পোশাক শ্রমিক রাখি আক্তার বলেন, ‘ভোটের জন্য চারদিকে উৎসবের মতো মনে হয়েছে। হঠাৎ করে এমন খবরে মনটা ভেঙে গেছে।’
উল্লেখ্য, সিটি করপোরেশনে সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের ছয়টি মৌজাকে অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা নিয়ে করা রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনটি করেন সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানার শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবিএম আজহারুল ইসলাম সুরুজ।








