স্থগিতাদেশ উঠে গেলেও ১৫ মে নির্বাচন সম্ভব হবে না: সিইসি

গাজীপুর প্রতিনিধি
০৯ মে ২০১৮, ১৪:১৪আপডেট : ০৯ মে ২০১৮, ১৫:০৭

গাজীপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার উচ্চ আদালত স্থগিতাদেশ উঠিয়ে নিলেও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে (জিসিসি) আগামী ১৫ মে ভোটগ্রহণ সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, ‘সময়টা ক্রিটিক্যাল হয়ে গেছে। আমি মনে করি আজও যদি সিদ্ধান্ত আসতো তাহলে ১৫ মে ভোটগ্রহণ হতো। কিন্তু আগামীকাল (বৃহস্পতিবার ) শুনানির পরে সিদ্ধান্ত এলে সেটা আমাদের পক্ষে মনে হয় সম্ভব হবে না। যদি কোর্ট ১৫ মে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত দেন তাহলে সেটা তো যেভাবেই হোক করতেই হবে।’

বুধবার (৯ মে) গাজীপুর জেলা নির্বাচন অফিস পরিদর্শন ও পরে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভাশেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, ‘এখানে রিটার্নিং অফিসার, জেলা প্রশাসক, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি। এজন্যই এখানে আমাদের আসা। তারা প্রত্যেকেই বলেছেন ১৫ মে ভোটগ্রহণ সম্ভব না। পুলিশ সুপার বলেছেন, ১০ থেকে ১১ হাজার পুলিশ সদস্য এখানে মোতায়েন করতে হবে। ৬০০ গাড়ি রিকুইজিশন দিতে হবে। বিভিন্ন জেলা থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে হবে। সাড়ে আট হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এই কাজগুলো এই সময়ের মধ্যে করা আমি অসম্ভব মনে করি। আগামীকাল যদি সিদ্ধান্ত হয় তাহলে আমাদের ভোটের তারিখ পরিবর্তন করতে হবে।’

নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনও ব্যর্থতা নেই বলে মন্তব্য করেন সিইসি। তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক নিয়মে আইনের আলোকে আমরা নির্বাচন করি। স্থানীয় সরকারের অনুরোধে শুধু আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা করি। স্থানীয় সরকার বিভাগ যখন আমাদের চিঠি দিয়ে জানায় যে তাদের কোনও অসুবিধা নেই, তখনই কেবল আমরা তফসিল ঘোষণা করি। তাদের সীমানা নির্ধারণের বিষয়ে বা কোনও আইনি জটিলতা আছে কিনা সেটা তারা পরীক্ষা নিরীক্ষা করেই আমাদের বলেন আপানারা এখন নির্বাচন করেন। যখন তাদের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাই, তখন আর অন্য কিছু দেখার প্রয়োজন মনে করি না বা সুযোগও থাকে না।’

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার বিভাগকে আমাদের জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন হয় না যে সীমানা নির্ধারণ ঠিক আছে কি নাই। তবু গাজীপুর, খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের সময় তাদের আলাদা চিঠি দিয়েছি। সীমানা নিয়ে কোনও জটিলতা আছে কিনা, কোর্টে কোনও পেন্ডিং আছে কিনা, কোনও বিষয় নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে কিনা, এগুলো জানতে চেয়েছি। তখন তারা পরিষ্কার চিঠি দিয়েছে, কোথাও কোনও বিভেদ নেই, সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত কোনও সমস্যা নেই। তখনই আমরা তফসিল ঘোষণা করেছি। আমাদের কোথাও কোনও গাফিলতি নেই।’

নির্বাচন অনুষ্ঠানের নিয়মের ব্যাপারে সিইসি বলেন, ‘পরিষদের মেয়াদ শেষ, সীমানা নির্ধারণ শেষ এবং ভোটার তালিকা তৈরি করা পরিপূর্ণ হলে তার ভিত্তিতে নির্বাচন হয়। এটাই নিয়ম।’

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিতে আপিলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট স্থগিত আদেশের পর উকিল নিয়োগ করেছি আপিলের জন্য। আজ (বুধবার) আবেদন করার কথা।’

জাতীয় নির্বাচনে এমন সমস্যা হলে তা মোকাবিলার উপায় জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের একটা বাঁধা সময় থাকে। তার বাইরে যাওয়া যাবে না। ওই নির্বাচন সরকারের মেয়াদ পূর্তির আগে ৯০ দিনের মধ্যেই করতে হবে। এ রকম সমস্যা জাতীয় নির্বাচনে হবে না। হলেও আদালত তা বুঝবেন।’

প্রসঙ্গত, সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত জটিলতা বিষয়ে সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম আজাহারুল ইসলাম সুরুজের দায়ের করা রিট আবেদন বিবেচনা করে হাইকোর্ট গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন। এরপর থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সব কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। হাইকোর্ট রুলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের ছয়টি মৌজাকে অন্তর্ভুক্ত করা কেন বেআইনি হবে না—তা চার সপ্তাহের মধ্যে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সিইসির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জিসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মন্ডল, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের ভোটর গ্রহণ হওয়ার কথা ছিল ১৫ মে। ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠিত। নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬।

আরও পড়ুন- জিসিসি নির্বাচন: সময় চেয়েছে ইসি, শুনানি বৃহস্পতিবার

/এফএস//
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম