নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে মুক্তি জেনারেল হাসপাতাল নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় নীরা নামে ১১ বছরের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শনিবার রাতে রোগীর স্বজনরা বিক্ষোভ করলে হাসপাতালের সব চিকিৎসক, নার্স ও মালিকপক্ষ পালিয়ে যায়। তবে পুলিশ বলছে, তদন্তের পর অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দ এলাকার নূরে আলমের ১১ বছরের মেয়ে নুসরাত আক্তার নীরার গলায় টনসিলের অপারেশন করতে শনিবার বেলা এগারোটায় শহরের মুক্তি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ সার্জন ডা: আহম্মেদ তারিক ও এ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডা: আশরাফুল এনামের তত্ত্বাবধানে বিকেল চারটায় নীরাকে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকানো হয়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অপারেশন শেষ করে এই দুই চিকিৎসক মীরাকে মৃত বলে ঘোষণা দিয়ে কাউকে না বলে দ্রুত হাসপাতাল থেকে চলে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গোপন রেখে মীরাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলে স্বজনদের মধ্যে সন্দেহ জাগে। এসময় তারা সেখানে বিক্ষোভ শুরু করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নার্সগণ বিভিন্ন কক্ষে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান। পরে ডিউটি ডাক্তার মীরার মৃত্যু নিশ্চিত করে তিনিও সেখান থেকে চলে গেলে মীরার স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং উত্তেজিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মীরার স্বজনদের দাবি, পালিয়ে যাওয়া দুই চিকিৎসক আহম্মেদ তারিক ও আশরাফুল এনামের ভুল চিকিৎসার কারণেই মীরার মৃত্যু হয়েছে। তাদের অভিযোগ, টনসিল অপারশেন করতে গিয়ে চিকিৎসকরা মীরার গলা কেটে ফেলেছে। স্বজনরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। এ ঘটনায় চিকিৎসকদের ভুল থাকতে পারে বলে তিনি স্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: কামরুল ইসলাম জানান, নিহত মীরার পরিবারের পক্ষ থেকে ভুল চিকিৎসার কথা উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।








