খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উৎফুল্ল পরিবেশ দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, বিএনপিতে রয়েছে উত্তেজনা। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তবে সাধারণ ভোটাররা বলছেন, ভোটের পরই আসল অবস্থা বোঝা যাবে।
সোমবার (১৪ মে) প্রচারণার কোনও সুযোগ ছিল না। তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পক্ষ থেকে দলীয় কার্যালয়ে পৃথকভাবে প্রেস ব্রিফিং করা হয়। বিএনপির প্রেস ব্রিফিং থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, নির্বাচন থেকে বিএনপিকে সরিয়ে দেওয়ার কৌশল হিসেবে এ ধরনের আচরণ করা হচ্ছে। ফলে নেতাকর্মীরা বাসা-বাড়িতে অবস্থান করতে পারছেন না। তারা এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে কথাও বলতে পারছেন না। রাজনৈতিক মামলায় জামিনে থাকারও পরও তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।
বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘বিএনপি কর্মীদের ছাড়ানোর জন্য আদালতে ব্যস্ত থাকতে গিয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় জনতার সঙ্গে সময় দেওয়া যায়নি। ফলে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এটা চরম উদ্বেগের বিষয়। তবে জনতা বিএনপির সঙ্গেই আছে।’
আওয়ামী লীগের প্রেস ব্রিফিংয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ রয়েছে বলে দাবি করা হয়। ভোটাররা আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে ভোট দেবেন বলে দাবি করেন দলের নেতাকর্মীরা। প্রেস ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘বিএনপি যতই চক্রান্ত করুক না কেন জনতাকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না। উন্নয়নের দাবিতে খুলনার মানুষ একাট্টা হয়েছে। তারা উন্নয়নের প্রয়োজনেই আমাকে নির্বাচিত করবেন।’ প্রেস ব্রিফিং শেষে স্থানীয় একটি হোটেলে আওয়ামী লীগ আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজের অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে।
নির্বাচনকে ঘিরে দৌলতপুরের বাসিন্দা আফসার হোসেন বলেন, ‘সোমবার স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অবস্থান দেখে মনে হয়েছে তারা নিশ্চিত বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে আনন্দ উৎসব দেখা গেছে। আর বিএনপিতে উদ্বেগের ছাপ ছিল পরিষ্কার। কিন্তু সাধারণ ভোটাররা এ সবের কোনও কিছুতেই কান দিতে রাজি নয়। তারা ১৫ মে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট কেন্দ্রে যাওয়া ও স্বাভাবিকভাবে বাসা-বাড়িতে ফিরতে চান। ফলাফলের জন্য নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান।’
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএিমপি) এডিসি ও মিডিয়া উইং প্রধান সোনালী সেন বলেন,‘নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশ নগরজুড়ে সতর্ক অবস্থানে থেকে টহল দিচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যা নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সহায়ক হবে।’
কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুস আলী বলেন, ‘নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাটল বাক্স ও পেপারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সামগ্রী কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসারসহ ২৪ জনের টিম এবং সাধারণ কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসারসহ ২২ জনের টিম মোতায়েন করা হয়েছে। ২টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে। ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসা ও নিরাপদে বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য বিজিবি,র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় রয়েছেন। ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচনি মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন।’
আরও পড়ুন-
নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, জনতা আনন্দ নিয়ে ভোট দেবে: খালেক
সরকার ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করছে, লড়াই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে: মঞ্জু








