চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পাড় থেকে লাশ উদ্ধারের ১৭ দিন পার হতে চললেও স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিনের মৃত্যু রহস্যের কোনও কিনারা করতে পারেনি তদন্তকারী কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, ভিসেরা ও কেমিক্যাল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। এসব রিপোর্ট এখনও পর্যন্ত না পাওয়ায় তাসফিয়ার মৃত্যুর কারণ নিয়ে তারা ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছেন। তবে ময়নাতদন্ত, ভিসেরা ও কেমিক্যাল রিপোর্ট হাতে পেলে তারা নিশ্চিত করে বলতে পারবেন, তাসফিয়া আমিন আত্মহত্যা করেছে নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শুক্রবার (১৮ মে) দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পতেঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘তাসফিয়ার মৃত্যুর কারণ এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। আমরা কেমিক্যাল রিপোর্টের জন্য ভিসেরা, ভ্যাজাইনা সোয়াপ –এগুলো ঢাকায় পাঠিয়েছিলাম। এখনও এসব রিপোর্ট হাতে পাইনি। এগুলো হাতে পেলে আমরা জানতে পারবো, সে আত্মহত্যা করেছে নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে।’ এখনও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাননি বলেও তিনি জানান।
গত ২ মে সকালে নগরীর পতেঙ্গার ১৮ নম্বর ব্রিজঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে তাসফিয়ার লাশ দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ে লাশটি উদ্ধার করে। পরে লাশের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাসফিয়া আমিনের বাবা-মা থানায় গিয়ে নিশ্চিত করেন, এ লাশ তাদের মেয়ের।
তাসফিয়া চট্টগ্রাম নগরীর সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। তাদের গ্রামের বাড়ি টেকনাফের ডেইল পাড়া এলাকায়। তাসফিয়া পরিবারের সঙ্গে নগরীর ওআর নিজাম আবাসিক এলাকার তিন নম্বর সড়কের কে আর এস ভবনে থাকতো। লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার আগের দিন মঙ্গলবার (১ মে) সন্ধ্যায় তাসফিয়া তার ছেলে বন্ধু আদনানের সঙ্গে রেস্টুরেন্টে খেতে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল।
এ ঘটনায় পুলিশ তার বন্ধু আদনানকে গ্রেফতার করলেও তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। গত ১০ মে গাজীপুর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে আদনানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ তার কাছ থেকে কিছু তথ্য পেয়েছে। পুলিশের দাবি, তদন্তের স্বার্থে ওইসব তথ্য এখনই প্রকাশ করা যাবে না।
অন্যদিকে, এ ঘটনায় পুলিশ আদনানকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়েছিল। তবে আদালত তাদের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা আদনানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু তথ্য পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে আমরা এসব তথ্য এখনই প্রকাশ করতে চাইছি না। আমরা তাকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের অনুমতি চেয়েছিলাম। আদালত আমাদের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন।’
শুধু মৃত্যুর কারণ নয়; তাসফিয়া রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে কিভাবে পতেঙ্গায় গেলো, কার সঙ্গে গেলো বা কী কারণে গেলো –এসব প্রশ্নের উত্তরও এখনও খুঁজে পায়নি পুলিশ।
ঘটনার পর পুলিশ চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্ট থেকে পতেঙ্গা ১৫ নম্বর ঘাট পর্যন্ত অসংখ্য সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করলেও এখনও তারা নিশ্চিত হতে পারেনি, তাসফিয়া সিএনজি অটোরিকশায় নাকি অন্য কোনও গাড়িতে চড়ে পতেঙ্গায় গিয়েছিল।
এদিকে, এ ঘটনায় গত ৩ মে তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন পতেঙ্গা থানায় আদনানসহ ছয় জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় আদনান ছাড়া আর কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শুক্রবার (১৮ মে) দুপুরে পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তাসফিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন কোনও আপডেট নেই। আমরা তার ময়নাতদন্ত, ভিসেরা ও কেমিক্যাল রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে আছি। সেগুলো হাতে পেলে আমরা তার মৃত্যুর কারণ জানতে পারবো।’








