ভাগ্য ফেরাতে গিয়ে বিপাকে শাহনাজ-বানেছা, ফেরার অপেক্ষায় পরিবার

মতিউর রহমান, মানিকগঞ্জ
২৯ মে ২০১৮, ০৭:৫৫আপডেট : ২৯ মে ২০১৮, ১৫:৩৩

ব্র্যাকে-করা-শাহনাজের-আবেদন

মানিকগঞ্জের সিংগাইরের জয়মন্টপ ফকিরপাড়ার গ্রামের বাসিন্দা শাহনাজ। পরিবারের ভাগ্য ফেরাতে সৌদি আরব গিয়েছিলেন ৫ মাস আগে। ভাগ্য ফেরানোর বদলে নিজেই দুর্ভাগ্যের মধ্যে পড়েছেন। সেখানে গৃহকর্তা ও তার পরিবারের লোকজনের নির্যাতন, খাবারের কষ্ট, বিরামহীন পরিশ্রমের মধ্যে দিন কাটাছে তার। একই অবস্থার মধ্যে আছেন একই এলাকার বানেছা বেগম। ওই দুই নারীকে ফেরত আনতে তাদের স্বজনরা ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে আবেদন করেছেন। এখন মেয়ের দেশে ফেরার অপেক্ষা প্রহর গুনছেন তারা।

শনিবার (২৬ মে) দুপুরে সরেজমিনে শাহনাজের বাড়ি গিয়ে কথা হয় তার বাবা আব্দুলের সঙ্গে। এসময় পাশেই দাঁড়িয়ে তাদের কথা শুনছিল শাহনাজের ছেলে তানিম। এক পর্যায়ে সে নানাকে প্রশ্ন করে, ‘মা কখন আসবে? আমি মায়ের কাছে যাবো।’

শাহনাজের বাবা বলেন, একই ইউনিয়নের পূর্বভাকুমপুর গ্রামের সমে সিকদার আর মহিদুর ঢাকার ফকিরাপুলের সিটিকম ইন্টারন্যাশনাল ট্র্যাভেলসের মাধ্যমে তার মেয়েকে সৌদি আরবে পাঠায়। দালালরা জানায়, তার মেয়েকে ১৮ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হবে। কিন্তু সৌদি আরবে গিয়ে বেতন তো দূরের কথা, শাহনাজের ওপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। তিন বেলার জায়গায় এক বেলা খাবার দেওয়া হয়। কাজে উনিশ-বিশ হলে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। সৌদি আরবের সময় ভোর সাড়ে ৩টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিরামহীনভাবে কাজ করানো হচ্ছে। এমনকি তাকে অনৈতিক কাজ করাতেও বাধ্য করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মেয়ে ফোন করে বলেছে, ‘বাবা তুমি আমাকে এই নরক যন্ত্রণার হাত থেকে উদ্ধার করো। দেশে নিয়ে যাও।’

চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি শাহনাজ যে বাসায় কাজ করে সেই বাড়ির মালিক তার পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোনটিও নিয়ে গেছে। এখন তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না তার পরিবার।

শাহনাজের-ছেলে-তানিম

আব্দুল জানান, সমে আর মহিদুরকে তার মেয়ের ওপর এসব নির্যাতনের কথা বললে তারা তা কর্ণপাত করছে না। উল্টো দালালরা মেয়েকে ফিরিয়ে আনার জন্য তার কাছে আড়াই লাখ টাকা দাবি করছে।

পাঁচ মাস সৌদি আরবে কাজ করলেও মাত্র দুই মাসের বেতন পাঠাতে পেরেছেন শাহনাজ। গত ১৪ মার্চ শাহনাজকে সৌদি আরব থেকে ফেরত আনতে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন বিভাগে আবেদন করেছেন শাহনাজের পরিবার। কিন্তু এখনও কোনও সাড়া পায়নি তারা। মেয়েকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন বাবা আব্দুল।

শাহনাজের স্বামী শামীম জানান, প্রায় ছয় বছর হলো তাদের বিয়ে হয়েছে। নিজের জমি না থাকায় নানি বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন। তিনি দিনমজুরের কাজ করেন। পরিবারের সুখের জন্য স্ত্রী শাহনাজ সৌদি আরবে কাজ করতে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে পরিবারের সুখ তো দূরের কথা নিজের জীবন এখন যায় যায় অবস্থা।

এদিকে, একই অবস্থা ধল্লা ইউনিয়নের বাস্তা গ্রামের বানেছা বেগমের। ২০১৫ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর চার ছেলে-মেয়ে নিয়ে অথৈ সাগরে পড়েন তিনি। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। স্থানীয় দালালের মাধ্যমে বানেছা ২০ হাজার টাকা বেতনের চুক্তিতে সৌদি আরবে গিয়ে ফেঁসে গেছেন।

বানেছার মেয়ের জামাই সুজন জানান, তার শাশুড়ি সৌদি আরবে খুব কষ্টে আছেন। যে বাসায় তিনি কাজ করেন সে বাসার গৃহকর্তা কাজে একটু ভুল হলেই মারধর করেন এবং খাবারে কষ্টে দেন। অসুখ হলে চিকিৎসা করান না। যে দালালের মাধ্যমে তার শাশুড়িকে সৌদি আরব পাঠিয়েছিলেন তারা তাকে অভিযোগগুলো জানানোর পর বানেছাকে ফিরিয়ে আনতে উল্টো দুই লাখ টাকা দাবি করেছে দালাল।

তারাও ব্র্যাকের মাধ্যমে বানেছা বেগমকে দেশে ফেরত আনার আবেদন করেছেন। তবে এখনও সাড়া তারা পাননি।

 

 

/এসটি/টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম