জন প্রতিনিধি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের পর রৌমারী থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে এবার মাদক ব্যবসার অভিযোগ এনেছেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বরাবর বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্যাডে লিখিত আকারে তিনি এ অভিযোগ করেন।
কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, রাজিবপুর এবং উলিপুর ও চিলমারী উপজেলার আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য (জেপি) মো. রুহুল আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, ওসি জাহাঙ্গীর আলম (বিপি নং-৭৯০৪১১২০৩১) গত বছরের ৫ আগস্ট রৌমারী থানায় যোগদানের পর থেকে নিরীহ মানুষকে হয়রানি, মাদক দিয়ে মিথ্যা ও সাজানো মামলা,ময়নাতদন্ত ছাড়াই অপমৃত্যুর লাশ দাফন, ঘুষ গ্রহণ, আটক বাণিজ্য ছাড়াও প্রতারণা,স্বেচ্ছাচারিতা, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নসহ নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তার কার্যক্রমে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ৬ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ তার বিরুদ্ধে পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর গত ২৩ মে অভিযোগ করেন। এই অভিযোগ দাখিলের কারণে জনপ্রতিনিধিদের বিভিন্ন ধরনের মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে আসছেন ওসি জাহাঙ্গীর এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে খারাপ আচরণ প্রদর্শন ও ভাষা প্রয়োগ করছেন।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ছাত্রজীবনে জাহাঙ্গীর আলম করটিয়া সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এই ওসি নিজেই মাদকাসক্ত, ইয়াবাসেবী ও মাদক ব্যবসায় জড়িত।
এ ব্যাপারে জানতে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ওসির হয়রানির ভয়ে স্থানীয় জনগণ এখন আতঙ্কিত। শুনেছি সে (ওসি) নিজেও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।’
এই সংসদ সদস্য আরও জানান,‘ শেখ হাসিনার সরকার জনবান্ধব সরকার। আমরা সাধারণ মানুষের জন্য রাজনীতি করি। সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হবে কেন! পুলিশ কারও বাড়িতে গেলে ট্যাবলেট (ইয়াবা) নিয়ে যায়। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিং এ রেজুলেশন হয়েছে, পুলিশ কারও বাড়িতে গেলে তল্লাশি করার আগে যেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নেয়। কিন্তু পুলিশ সেটা করছে না। এমনি এমনি মানুষদের ধরে নিয়ে এসে বলে ইয়াবা পাওয়া গেছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে ওসি জাহাঙ্গীর সাধারণ মানুষদের হয়রানি করবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।’
বিএনপির লোকজন টাকা দিয়ে ওসি জাহাঙ্গীরকে রৌমারীতে নিয়ে এসেছে অভিযোগ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ছাত্র জীবনে সে (ওসি জাহাঙ্গীর) ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
এর আগে মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতাসহ মাদকের মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে স্থানীয়দের হয়রানির অভিযোগ এনে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলার ছয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ মহাপরিদর্শক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী বলেন,‘ওসি জাহাঙ্গীর আলম মাদক ব্যবসার স্থানীয় মূল হোতাদের সঙ্গে নিজেও মাদকের ব্যবসা করেন। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে।’
মাদক ব্যবসায় সংশ্লিষ্টতা ও সাধারণ মানুষদের মাদক মামলায় ফাঁসানোর ব্যাপারে জানতে রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলমের নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ সংক্রান্ত আগের স্টোরি: ওসির বিরুদ্ধেই যখন মাদক ব্যবসার অভিযোগ








