খাবারের টাকা চাওয়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি দোকানে হামলা ও দোকানিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের এক নেতা ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৩১ মে) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশনের পাশের একটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. নজরুল এ খবর জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম মিজানুর রহমান মিজান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক সংগঠন কনকর্ড-এর নেতা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল (বুধবার) ইফতারের পর টাকা না দিয়ে চলে যাওয়ার সময় দোকান কর্মচারীরা মিজানের কাছে টাকা চান। এতে দোকান মালিক ও কর্মচারীদের গালিগালাজ করেন মিজান। ওই সময় দোকান মালিক সেখানে ছিলেন না। আজ (বৃহস্পতিবার) বিকালে আবার ওই দোকানে আসেন মিজান। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা তৌহিদুল ইসলাম জিমেল এবং আরও বেশ কয়েকজন। দোকানে এসেই তারা দোকানির সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু করেন। এর এক পর্যায়ে দোকানে হামলা করে ইফতার সামগ্রীসহ ওই দোকানের অন্যান্য মালামাল ফেলে দেন তারা। একইসঙ্গে তারা দোকানিকে মারধরও করেন। এসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ছুড়ে মারা পাথরের আঘাতে দোকানি আহত হন।
দোকান মালিক খোকন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গতকাল আমার অবর্তমানে দোকানে এসে ইফতার করার পর বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার সময় কর্মচারীরা তার (মিজান) কাছ থেকে টাকা চান। এসময় সে আমাকেসহ আমার কর্মচারীদের গালাগাল করে। এর রেশ ধরে আজও আমার দোকানে এসে চিৎকার-চেঁচামেচি করে সে ও তার সহযোগীরা। একপর্যায়ে আমার দোকানে হামলা করে সব ইফতারিসহ অন্যান্য মালামাল ফেলে দেয়। একইসঙ্গে আমাকে মারধর করে।’
খোকন আরও বলেন, ‘সে সবসময় দোকানে এসে ফাও খেয়ে চলে যায়। অনেক সময় টাকা চাইলে হুমকি-ধমকি দেয়। তার কাছে প্রায় আট হাজার টাকা পাওনা আছে আমার।’
চবি বহুমুখী দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন বাংলা ট্রিউিনকে বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, দোকানের সব ইফতার সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পরে আছে মাটিতে। এতে প্রায় দশ হাজার টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে তার (খোকন)। এর আগেও দোকানপাটের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা কোন সুরাহা করে না। তাই দিন দিন দোকানদারদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েই যাচ্ছে।’
এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি অবগত নই। তবে কেউ যদি কোনও অভিযোগ করে থাকে, তাহলে ব্যাপারটা খতিয়ে দেখা হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. নজরুল বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। দোকানি ও দোকান মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা মৌখিক অভিযোগ দিলেও এখনও লিখিত অভিযোগ করেননি।’








