দুই বছর আগে (২০১৬ সালে) স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে তিনি দেখেন ভোটার তালিকায় তার নাম নেই। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তাকে মৃত দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এরপর মৃতদের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ফের ভোটার তালিকায় নাম তুলতে গত দু’বছর ধরে অফিসে অফিসে ঘুরছেন তিনি। তবে এখনও সফল হতে পারেননি।
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ৩ নম্বর শ্রীকোল ইউনিয়নের বরিশাট গ্রামের মাসুদুর রহমানের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটেছে। মাসুদ বরিশাট গ্রামের মৃত আব্দুস সালাম ও মমতাজ বেগমের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রীপুর নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, সুস্থ শরীরে সংসারের সব কাজ-কর্ম করে গেলেও ৪১ বছর বয়সের মাসুদকে ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের দাখিল করা প্রতিবেদনের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন মাসুদ।
এ প্রসঙ্গে মাসুদুর রহমান বলেন, ‘২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে দেখি আমার নাম ভোটার তালিকায় নেই। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আমাকে মৃত দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তথ্য সরবরাহকারী বরিশাট গ্রামের ৩ নম্বর শ্রীকোল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার (ইউপি সদস্য) মো. লাভলুর রহমান এবং তথ্য সংগ্রহকারী আলোক কুমার বিশ্বাস ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট মাসুদুর রহমান মারা গেছেন মর্মে ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসে তথ্য দাখিল করেন। তাদের দুজনের দেওয়া সেই তথ্যের ভিত্তিতেই মাসুদুর রহমানকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে আইনজীবী রতন কুমার মিত্র বলেন, ‘প্রচলিত আইন অনুযায়ী মিথ্যা তথ্য দাখিল করলে ভোটার তালিকা আইন ২০০৯-এর ১৮ ধারা অনুসারে তা দণ্ডনীয় অপরাধ। সেক্ষেত্রে মাসুদুর রহমান মারা গেছেন মর্মে তথ্য সরবরাহকারী ও তথ্য সংগ্রহকারী দুজনই সমান অপরাধী।’
এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহকারী বরিশাট কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অলোক কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আসলে একটা মিসটেক হয়ে গেছে। ইউপি সদস্য লাভলুর রহমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাসুদুর রহমানের মারা যাওয়ার তথ্যটি নির্বাচন অফিসে দাখিল করা হয়েছিল।’
এদিকে, সংশ্লিষ্ট তথ্য সরবরাহকারী ইউপি সদস্য মো. লাভলুর রহমান বলেন, ‘মাসুদুর রহমান যে আজও বেঁচে আছেন, তা ভালোভাবেই জানি।’ তাহলে কীভাবে তিনি দাখিলকৃত ফরমে স্বাক্ষর করলেন—এ প্রশ্নের জবাবে এই ইউপি সদস্য বলেন, ‘স্বাক্ষর আমার নয়।’ কিন্তু জানা যায়, শ্রীপুর নির্বাচন অফিসে দাখিল করা ১২ নম্বর ফরমে লাভলুর রহমানের স্বাক্ষরের পাশে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ৫৫১৯৫৭৩৩৮১০৬৪ বলে উল্লেখ আছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটা ভুল হয়ে গেছে। এখন সেটার সমাধান হওয়া প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. আব্দুর রশিদ শেখ বলেন, ‘ঘটনাটি আমি এখানে আসার অনেক আগের। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে কীভাবে সমাধান করা যায় তা দেখবো।’
ভুক্তভোগী মাসুদ বলেন, ‘কার দোষে আমাকে অফিসে অফিসে ঘুরে প্রমাণ করে বেড়াতে হচ্ছে আমি জীবিত? আমাকে কি মরে প্রমাণ করতে হবে যে আমি মরিনি?’








