প্লাস্টিক আগ্রাসন ও পলিথিন কারখানা বন্ধের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
০৫ জুন ২০১৮, ২১:২২আপডেট : ০৫ জুন ২০১৮, ২১:৩৮

নাগরিক সমাবেশ

পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে অবিলম্বে প্লাস্টিক আগ্রাসন ও পলিথিন কারখানা বন্ধের দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী নাগরিক আন্দোলন। সোমবার (৫ জুন) বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়ে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশ থেকে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি জানান।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০১৮ উপলক্ষে পরিবেশবাদী নাগরকি আন্দোলন ‘পিপলস ভয়েস’ ও বাংলাদেশ রসায়ন সমিতি,  চট্টগ্রাম অঞ্চল যৌথ উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে নেতারা বলেন, প্লাস্টিকের আগ্রাসনের কারণে বিশ্বের চিত্র আজ ভয়াবহ। আমাদের সংসদে পলিথিন নিষিদ্ধের বিল পাস হয়েছে। কিন্তু আইন থেকে লাভ কী, এর প্রয়োগ তো দেখি না। সব জায়গায় এখন প্লাস্টিকের ব্যবহার। রাষ্ট্রকে এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে উদ্যোগী হতে হবে। পাশাপাশি পলিথিন দূষণ বন্ধে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

পিপলস ভয়েসের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মুহাম্মদ আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শরীফ চৌহান। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্যে দেন– খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা, হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের রসায়নের অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী, রাজনীতিবিদ হাসান মারুফ রুমি, সাংস্কৃতিক সংগঠক সুনীল ধর, সংগঠক সেলিম আকতার পিয়াল, ভ্রমণবিষয়ক অনলাইন ‘ট্র্যাভেলিং চট্টগ্রাম’র প্রধান সম্পাদক কাজী এ এম এম মমতাজুল ইসলাম, পটিয়া উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাজেদা বেগম শিরু, খেলাঘর সংগঠক অধ্যাপিকা ইন্দিরা চৌধুরী, রুমা বিশ্বাস ও কাবেরী আইচ, পরিবেশ সংগঠক তপন দে প্রমুখ।

ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘একজন চিকিৎসক হিসেবে মায়েদের উদ্দেশে বলতে চাই, প্লাস্টিকের প্যাকেটে মোড়ানো শিশু খাদ্য বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করে। তাই এ ধরনের শিশু খাদ্য পরিহার করুন। প্লাস্টিক ও পলিথিন মাটিতে মেশে না , ক্ষয়ও হয় না। এর কারণে লিভার ও কিডনিজনিতসহ বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।’

পাটের ব্যবহার বাড়াতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘চটের বস্তার ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে। একটি মহল বাংলাদশের পাট শিল্পকে ধ্বংস করতে পলিথিন-প্লাস্টিকের রমরমা বাণিজ্যকে রক্ষা করতে চাইছে। এটা কোনোভাবেই করতে দেওয়া যাবে না।’

সভাপতির বক্তব্যে পিপলস ভয়েসের সভাপতি শরীফ চৌহান বলেন, ‘উৎস বন্ধ না হলে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা যাবে না। দেশে এখনও শতাধিক পলিথিন কারখানা চালু আছে। সেসব কারখানা চালু রেখে শুধু আইন করে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা যাবে না। পাশাপাশি প্লাস্টিকের ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশের কয়েকটি শ্রমনির্ভর জনগোষ্ঠী তাদের জীবিকা হারাতে বসেছে। প্লাস্টিক পরিবেশ দূষণ করে এবং কখনোই পচে না। তাই প্লাস্টিককে নিরুৎসাহিত করে আমাদের দেশীয় শিল্পগুলোকে বাঁচাতে হবে।’

সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা বলেন, ‘পলিথিন বর্জ্য ক্রমাগত বাড়ছেই। শৈশবে দেখেছি, পাট দিয়ে ব্যাগ-বস্তা সবই হয়। প্লাস্টিকের বিকল্প হলো পাটজাত দ্রব্য। রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা পলিথিন-প্লাস্টিকের পরিবর্তে পাট শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখবেন কিনা।’

হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের রসায়নের অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীর ৬০ লাখ মানুষ যে পলিথিন ব্যবহার করে তার প্রায় পুরোটাই নালা-খাল হয়ে নদীতে গিয়ে পড়ছে। আর কিছু মাটির উর্বরতা বিনষ্ট করছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতের পৃথিবী আর বাসযোগ্য থাকবে না। নতুন প্রজন্মকে আমরা কেমন বিশ্ব দিয়ে যাচ্ছি তা আমাদের ভাবতে হবে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতি কমাতে একই পলিথিন বা প্লাস্টিকের পুনঃব্যবহার করতে হবে। দীর্ঘ মেয়াদে এসব পণ্য ব্যবহার একেবারে বন্ধ করতে হবে।’

 

/এমএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম