আরব দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে আজ শুক্রবার (১৫ জুন) দেশের চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, দিনাজপুর, মৌলভীবাজার, সাতক্ষীরা ও নারায়ণগঞ্জ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ঈদ-উল-ফিতর উদযাপিত হয়েছে। ঈদ উদযাপনের বিষয়ে আমাদের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য নিচে তুলে ধরা হল:-
চাঁদপুর
চাঁদপুরের ৪০টি গ্রামে আজ ঈদ-উল- ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার সরীফে সকাল সাড়ে ৯টায় ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এখানে ঈদের নামাজে ইমামতি করেন সাদ্রা দরবার সরীফের পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী। এসময় শত শত মুসল্লি ঈদের জামাতে অংশ নেন। চাঁদপুরের বদরপুর এলাকায় ঈদ জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা মোহাম্মদ আবু হানিফ। ঈদকে ঘিরে এসব গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। গত ৮৮ বছর ধরেই আরব দেশগুলোর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সাদ্রাসহ জেলার ৪০টি গ্রামে ঈদ উদযাপিত হয়ে আসছে।
বরিশাল
বরিশাল জেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার পরিবার শুক্রবার (১৫ জুন) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে। সৌদি আরবে চাঁদ দেখার ওপর নির্র্ভর করে তারা শুক্রবার সকালে ঈদের নামাজ আদায় করেন। শুক্রবার বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকার তিনটি জামাতের মধ্যে প্রধান ও বৃহত্তম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ‘তাজকাঠি জাহাঁগিরিয়া শাহ্সুফি মমতাজিয়া জামে মসজিদ’ প্রাঙ্গণে। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল আলীম। বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় পূর্ব হরিণাফুলিয়া চৌধুরী বাড়ি শাহ মমতাজিয়া জামে মসজিদে ঈদের নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা আবু সাঈদ চৌধুরী।
ভোলা
ভোলার ১৫টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ শুক্রবার (১৫ জুন) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন। সকালে জেলা সদর, বোরহানউদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও তজুমদ্দিন উপজেলার ১৫ গ্রামের সুরেশ্বর দরবারের পীর ও সাতকানিয়া পীরের অনুসারীরা পৃথকভাবে ঈদের নামাজ আদায় করেন। সকাল পৌনে ৯টায় জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মুলাইপত্তন গ্রামের মজনু মিয়ার বাড়িতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কয়েকশ মানুষ ঈদের জামাতে অংশ নেন। সুরেশ্বর দরবারের মুরিদ মজনু মিয়া জানান, বিশ্বের কোথাও প্রথমে চাঁদ দেখা গেলে তার সঙ্গে মিল রেখে প্রতি বছরই ভোলা জেলার ১৫টি গ্রামের মানুষ আগাম রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করেন। সারাবিশ্বে একই দিন ঈদ করার পক্ষে তারা।
পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় আজ পালিত হচ্ছে ঈদ-উল-ফিতর। জেলার বাউফল, কলাপাড়া, গলাচিপা, দশমিনা ও সদর উপজেলার ২২টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আগাম পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর পালন করছেন। শুক্রবার সকাল ৯ টার দিকে পটুয়াখালীর বদরপুর দরবার শরীফে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদের জামাত পরিচালনা করেন দরবারের খতিব মাওলানা শফিকুল ইসলাম গনি। পটুয়াখালী সদর উপজেলায় ৫টি, দুমকী উপজেলায় ২টি, মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ৩টি, বাউফল উপজেলায় ৩টি, গলাচিপা উপজেলায় ৩টি এবং কলাপাড়া উপজেলায় ৬ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মুসলমান ঈদ-উল- ফিতর পালন করছেন। স্থানীয়ভাবে এরা চট্টগ্রামের এলাহাবাদ সুফিয়া ও বদরপুর দরবার শরীফ এবং চানটুপির অনুসারী হিসাবে পরিচিত।
দিনাজপুর
সৌদি আরবের সাথে সঙ্গতি রেখে দিনাজপুরের সদর, চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, কাহারোল এবং বিরল উপজেলার কিছু এলাকায় আজ শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে প্রায় ২ হাজার পরিবার। এসব পরিবারের মুসল্লিরা বিভিন্ন স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। শুক্রবার সকাল ৯টায় দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টিতে একটি কমিউনিটি সেন্টারে (পার্টি সেন্টার) অনুষ্ঠিত ঈদের জামায়াতে প্রায় দুইশত মুসল্লি অংশ নেন। সেখানে ঈমামতি করেন মাওলানা সাইফুল্লাহ। দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত বেশকিছু মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করেন। এছাড়াও জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার সাইতাড়া ও রাবার ড্যাম এলাকা, কাহারোল উপজেলার জয়নন্দ ও গড়েয়া বাজার, বিরল উপজেলার বালান্দোর ভারাডাঙ্গী বাজার এবং পার্বতীপুর উপজেলায় আজ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
মৌলভীবাজার
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উল ফেতরের নামাজ আদায় করলেন মৌলভীবাজারের শতাধিক পরিবারের মুসল্লি। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করেন তারা। শুক্রবার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে ৬টায় শহরের সার্কিট হাউস এলাকার আহমেদ শাবিস্তা নামক বাসার ছাদে এই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ঢাকা, বিক্রমপুর, গোপালগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নারী ও পুরুষ অংশ নেন। ইমামতি করেন আলহাজ্ব আব্দুল মাওফিক চৌধুরী (পীর সাহেব উজান্ডি ভারত)।
নারায়ণগঞ্জ
সৌদি আরবরে সঙ্গে মিল রেখে নারায়ণগঞ্জরে ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকায় শুক্রবার বেলা এগারোটায় একটি মাদ্রাসায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিশুসহ হানাফি অনুসারী মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েকশ মুসল্লি এই ঈদ জামাতে অংশ নেন। এই ঈদ জামাতে অংশ নিতে সকাল থেকেই ঢাকার সাভার, করোনীগঞ্জ, গুলশান, পুরাতন ঢাকার বংশাল, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের বন্দর, রূপগঞ্জ, কাঁচপুর থেকে মুসল্লিরা এসে লামাপাড়ায় হযরত শাহ সুফি মমতাজিয়া হেফজ মাদ্রাসা ও এতমিখানায় জমায়েত হন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা ঈদের কোলাকুলি করেন সকলে মিলে সেমাই ও মিসষ্টি খান। তারা জানান, প্রায় দুইশ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করে আসছেন তারা।
সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাওকোলা পুর্ব-পাড়া জামে মসজিদে আজ ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টায় এ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মহব্বত আলী। এছাড়া সদর উপজেলার চাঁদপুর ও তালা উপজেলার ইসলামকাটিতে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাতক্ষীরায় পৃথক এই ঈদের জামায়তে পাঁচ শতাধিক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।








