উপকূলীয় এলাকা বরগুনা জেলার প্রায় ৬৫ হাজার একর জমিতে রয়েছে বিশাল বনভূমি। এসব বনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বনরক্ষীদের আবাসিক ভবনগুলোর বর্তমানে জরাজীর্ণ দশা। ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও কোনও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব ভবনেই বাস করছেন বনপ্রহরীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন বিটে ভাগ করা বনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে বন বিভাগের বন কর্মকর্তাসহ বনরক্ষীরা। এসকল বনে বন বিভাগের বন প্রহরীদের থাকার বেশির ভাগ ভবন পরিত্যক্ত।ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবনের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে গেছে। এছাড়াও কাঠ ও ইটে লেগে আছে শ্যাওলা। বৃষ্টির মৌসুমে পলিথিন দিয়েই চলে বৃষ্টি আটকানোর কাজ।অনেক ঘরের টিনের চাল ফুটো হয়ে পরছে পানি। আবার অনেক স্থানে সুপেয় পানির ব্যবস্থাও নেই। অনেক ভবন রয়েছে সর্ব্বোচ্চ ঝুঁকিতে।যে কোনও সময় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ধসে পরে মৃত্যু হতে পারে বসবাসকারীদের। তবে কর্মকর্তাদের দাবী, দ্রুত এসকল ঘর মেরামত করে বসবাসের উপযোগী করা হবে।
জানা যায়, বরগুনার ৬ উপজেলার মধ্যে বামনা, বেতাগী ও আমতলী উপজেলায় বনকর্মীদের জন্য কোনও সরকারি অফিস বা থাকার জন্য কোনও ভবন নেই। প্রতি মাসে ভাড়া নেওয়া ঘরে চলছে অফিসের কাজ।একই সঙ্গে ঘর ভাড়া করেই বসবাস করছে বনকর্মীরা। অন্যদিকে বরগুনা সদর,পাথরঘাটা ও তালতলী উপজেলায় বনকর্মীদের ৩০টি ভবনের মধ্যে ২৪টি ভবন ঝুকিঁপূর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
বরগুনার পাথরঘাটার হরিনঘাটা বিটের বন কর্মকর্তা মো.বেলায়েত হোসেন বাংলা ট্রিউবিউনকে বলেন,‘এখানে একটি ভবন ভালো আছে,তবে বাকি দুটি এখন মরণফাঁদ।এসব ভবন বসবাসের উপযুক্ত নয়।’
চরদুয়ানী বনের বনপ্রহরী মো.ইউনুস আলী হাওলাদার জানান,‘চরদুয়ানীতে ঝুঁকিতে থাকা ঘরটি ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরে ভেঙে যায়। এরপর আর এখানে নতুন কোনও ঘর ওঠানো হয়নি। তাই ভাঙা ঘরে বেড়া দিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।’
চরলাঠিমারা বিটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.বদিউজ্জামন খান বলেন,‘পুরাতন দুটি ভবন ভেঙে গেছে।আমিসহ চার-পাঁচজন বনপ্রহরী একটি পরিত্যক্ত ভবনের ওপরে ত্রিপল ও পলিথিন দিয়ে বসবাস করছি। পরিবার নিয়ে থাকার মতো কোনও ব্যবস্থা আমাদের ব্যারাকে নেই।’
বরগুনা সদর উপজেলা ও তালতলী উপজেলার বিভিন্ন বন বিভাগের ব্যারাকেরও একই অবস্থা।বরগুনা জেলা শহরের বন বিভাগের কার্যালয় ঘুরে দেখা যায় রেঞ্জ কর্মকর্তার ভবনটি ফাঁকা পড়ে রয়েছে।সেটা বসবাসের উপযোগী নয়। বরগুনা অফিসের দায়িত্বে থাকা মো.মতিয়ার রহমান জানান, ‘অনেক আগেই রেঞ্জ কর্মকর্তার ভবন পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে। এছাড়া অন্য কর্মীদের থাকার ঘরও ভালো নেই। সব ঘরগুলো দিয়ে বৃষ্টির মৌসুমে পানি পড়ে। যারা এখানে রয়েছে তাদের অনেক কষ্ট করে বসবাস করতে হয়।’
বন বিভাগের পাথরঘাটা চরলাঠিমার বিটের বনরক্ষী মো.মতিউর মিয়া বলেন,‘আমাদের থাকার জন্য একটু ভালো ভবন দরকার। সারাদিন বনের মধ্যে কাটিয়ে সন্ধ্যায় এসে ভাঙা ঘরে ঝুঁকি নিয়ে থাকছি। চাকরি করার কারণে এখানে থাকা ছাড়া কোনও উপায় নেই।’
পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী বিটের বিট কর্মকর্তা মো.রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের কাছে আমাদের ন্যয্য দাবি, আমাদের ভবনগুলো যেন ঠিক করা দেওয়া হয়।’
বন বিভাগের পটুয়াখালী ও বরগুনার দায়িত্বরত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার জন্য পুরাতন ভবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নতুন করে ভবন নির্মাণের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’








