বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া ৩০টি ওয়ার্ডে ৩০ জন সাধারণ কাউন্সিলর পদের জন্য ১১৪ জন এবং ১০ টি সংরক্ষিত আসনে ৩৮ জন প্রার্থী বুধবার এবং বৃহস্পতিবার বিকালে শেষ সময় পর্যন্ত আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন ।
মনোনয়নপত্র জমা দানকারী বিসিসির মেয়র পদপ্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত মহানগর যুগ্ম সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, বিএপি মনোনীত কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক এবং মহানগর সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার, খেলাফত মজলিস মনোনীত মহানগর সম্পাদক অধ্যাপক এ কে এম মাহবুব আলম, জাতীয় পার্টির (এরশাদ) জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন তাপস, একই দলের সদর উপজেলা সভাপতি (স্বতন্ত্র) বশির আহমেদ ঝুনু, সিপিবির জেলা কমিটির সভাপতি একে আজাদ, সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) জেলা সদস্য সচিব ডা. মনিষা চক্রবর্তী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহানগর সম্পাদক ওবায়েদুর রহমান মাহবুব।
বরিশালের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নেওয়া সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ আঞ্চলিক নির্বাচন ও রিটার্নিং অফিসার মো. মুজিবুর রহমানের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এসময় দলের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আফজাল হোসেন, মহানগর সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, মহানগর সাধারণ সম্পাদক একে এম জাহাঙ্গীর হোসাইন, মহানগর সহ-সভাপতি আফজাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাহাবুব উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম), সাবেক সচিব সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, প্রার্থীর দুই সহোদর আশিক আবদুল্লাহ ও মঈন আবদুল্লাহসহ দলীয় সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে গণমাধ্যমের মুখামুখি হয়ে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, তার কোনও ইশতেহার নেই। জনগণের চাহিদা এবং আকাঙ্খাই তার ইশতেহার। তাই নির্বাচিত হলে সাবেক মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরনের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বরিশালকে উন্নয়নের শহরে রূপ দেওয়ার জন্য সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নমূলক কাজ করে করে যাবেন। তিনি দাবি করেন খুলনা ও গাজীপুরের নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছে। বরিশালেও সেরকমই হবে।
অন্যদিকে বেলা সোয়া ২টার দিকে বিএনপির প্রার্থী বিসিসির প্রথম নির্বাচিত মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং অফিসারের কাছে তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
এসময় তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহউদ্দিন ফরহাদ, সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কামরুল ইসলাম সজল, বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুল হক নান্নু, বরিশাল মহানগর সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান খান ফারুক, মহানগর সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন সিকদার, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম শাহিনসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা।
মজিবর রহমান সরোয়ার গণমাধ্যম কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব বলেন, ‘খুলনা ও গাজীপুরের দুটি নির্বাচন দেখে জনগণ হতাশ ও বিস্মিত হয়েছে। বরিশালের সিটি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়। তাছাড়া, তার বাবা একজন মন্ত্রীর পদমর্যাদায় এ অঞ্চলে আছেন। সেখানে নির্বাচন করা মানেই হাত-পা বেঁধে সাঁতার কাটার মতো। তারা দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে জনগণের ভোট কেড়ে নিতে চাইবে।’
সরোয়ার আরও বলেন, ‘ভেবেছিলাম গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। কিন্তু আমরা ৫ বছরে দেখতে পেয়েছি সরকার দেশের গণতন্ত্র আর জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে একনায়কতান্ত্রিক ভাবে দেশ পরিচালনা করছে।’
তিনি আশা করেন, সরকার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করে বরিশালে একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবে, যাতে এখানকার মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার করতে পারে। ইশতহার প্রসঙ্গে সরোয়ার বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে বরিশাল সিটির বর্ধিত এলাকার মানুষের উন্নয়নের কাজ করবেন। সেই সঙ্গে জলাবদ্ধতা দূর করতে নগর থেকে হারিয়ে যাওয়া খালগুলো পুনরুদ্ধারে কাজ করবেন।
গত ৩১ মে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল বৃহস্পতিবার। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১ ও ২ জুলাই। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ জুলাই। ১০ জুলাই দেওয়া হবে প্রতীক বরাদ্দ। এদিনই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। ভোটগ্রহণ হবে ৩০ জুলাই।
বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবার ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন ভোটার। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ জন এবং নারী ১ ভোটার লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন।








