মাঝখানে ঘাঘট নদী। এর এক পাড়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও অন্য পাড়ে রংপুরের মিঠাপুকুর। সেতু না থাকায় ঘাঘট নদী পারাপারে দুই জেলার দুই উপজেলার কয়েক হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষাকালে নৌকা ও শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকোয় তাদের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, সুন্দরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলার মানুষকে নদী পার হয়েই যেতে হয় শহর, হাট-বাজার, অফিস-আদালত ও স্কুল-কলেজে। বছরের পর বছর ধরে বর্ষাকালে নৌকা ও শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পার হন তারা। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেননি কোনও জনপ্রতিনিধি বা স্থানীয় প্রশাসনের কেউ।
সুমন মিয়া নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ব্রিজের অভাবে নদী পারাপারে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়। প্রতিদিন স্কুলে যেতে নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এ কারণে ঠিক সময়ে স্কুলে পৌঁছাতে পারি না।’
ব্যবসায়ী আনোয়ার মিয়া বলেন, ‘উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করতে হাট-বাজারে যেতে হয়। কিন্তু রিকশা, ভ্যান বা বাইসাইকেলবোঝাই করে নৌকায় নদী পার হতে হয় আমাদের, এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বিকল্প পথে যাওয়া যায়, কিন্তু এ জন্য অনেক ঘুরতে হয় এবং অতিরিক্ত অর্থ নষ্ট হয়।’
বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল হক রেজা বলেন, ‘এই খেয়া নৌকা শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগী পারাপারের উপযোগী নয়। দুই বছর আগে স্থানীয়রা উদ্যোগ নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু গত বছরের বন্যায় সেই সেতু ভেঙে যায়।’
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘দুই উপজেলার সীমানা ঘেঁষে নদীর অবস্থানের কারণে সেতু নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতা। তবে আর কোনও আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি নয়; হাজারো মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে ব্রিজ নির্মাণে বরাদ্দ চেয়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।’








