মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সরেজমিনে দেখতে কক্সবাজারে আসছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। সোমবার (২ জুলাই) সকালে কক্সবাজার বিমান বন্দর হয়ে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তাদের। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ অতিথির নিরাপত্তায় কক্সবাজার জেলা পুলিশ বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি বাড়তি তিন হাজার জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আফরুজুল হক টুটুল।
আফরুজুল হক টুটুল বলেন, ‘সোমবার সকালে কক্সবাজার বিমান বন্দরে অবতরণ করে সোজা সাইমন বিচ রিসোর্টে উঠবেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং করার পর চলে যাবেন উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। সেখানে সরেজমিন রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখবেন এবং নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের দুর্দশার কথা শুনবেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার ত্রাণ কেন্দ্র, চিকিৎসা সেন্টার ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও ঘুরে দেখার কথা রয়েছে তাদের।’
টুটুল আরও বলেন, ‘শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্প নয়, কক্সবাজারেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিমান বন্দর থেকে শুরু করে হোটেল-মোটেল জোন ও সড়কপথেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কবস্থায় রয়েছে পুলিশ। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর প্রতিটি ভেন্যুতে আগে থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’
শনিবার (৩০ জুন) দিনগত রাত ২টার পর কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বিমানবন্দরে জাতিসংঘ মহাসচিবকে স্বাগত জানান। এর আগে শনিবার বিকালে ঢাকা পৌঁছান বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। দুইজনই ঢাকার র্যাডিসন হোটেলে উঠেছেন।
এর আগে ২০০৮ সালে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর শীর্ষ পদে থাকা অবস্থায় জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে এসেছিলেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশে এটাই তার প্রথম সফর। তবে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম দুই বছর আগেই একবার বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার মুখে আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এর আগেও বিভিন্ন সময় সে দেশের সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে আসা আরও চার লাখের মতো রোহিঙ্গা গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ বলে আসছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ রোহিঙ্গা সংকটকে এশিয়ার এ অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকার গত বছরের ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করলেও নানা জটিলতায় বিষয়টি এগোয়নি। তবে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলে আসছে,বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীরা যাতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে নিজেদের দেশে ফিরে যেতে পারে এবং এই প্রত্যাবাসন যাতে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ করে হয়, তা নিশ্চিত করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে মিয়ানমারকে।
আরও পড়ুন-
রোহিঙ্গা নারীদের মুখে নির্যাতনের কথা শুনলেন মার্ক ফিল্ড








