বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আট জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে সাত জন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন। বিএনপি ও সিপিবি প্রার্থী আগে নির্বাচন করলেও বাকি ছয় প্রার্থী নবাগত। আট প্রার্থীর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তাদের অধিকাংশই ব্যবসায়ী; দুই জন শিক্ষক এবং একজন চিকিৎসক। এই আট প্রার্থীর মধ্যে মামলার রয়েছে কেবল ৩ জনের বিরুদ্ধে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য বলছে, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ারের শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলবিতে বিএ। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র ও চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য সরওয়ারের সম্পদের পরিমাণ অন্যদের চেয়ে বেশি। তার নগদ অর্থ রয়েছে ৯৫ লাখ টাকা। পেশায় ব্যবসায়ী সরওয়ারের নগদ বার্ষিক আয়ও বিপুল, ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৯০০ টাকা। তার কৃষিজমি রয়েছে ৪ দশমিক ৬৩ একর। তিনটি ফ্ল্যাট ছাড়াও তার রয়েছে টিনশেড বাড়ি। একটি জিপসহ মোট ৩টি গাড়ি রয়েছে তার। তার নামে আদালতে বিচারধীন মামলাও রয়েছে ১২টি।
হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০০৮ সালের চেয়ে বর্তমানে তার বার্ষিক আয় বেড়েছে আট গুণের বেশি। ২০০৮ সালে তার বাৎসরিক আয় ছিল ছয় লাখ ছয় হাজার টাকা, যা বর্তমানে ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৯০০ টাকা। সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়েছে দেড়গুণ। ২০০৮ সালে ৫১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৬৪ টাকার নগদ অর্থসম্পদ ছিল, যা ২০১৮ সালে তার নিজের ও স্ত্রীর নামে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ লাখ টাকায়।
হলফনামা অনুযায়ী নগদ অর্থ ও সম্পদে ২য় স্থানে রয়েছেন জাতীয় পার্টির মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসসি। তবে এবারই প্রথমবারের মতো নির্বাচন করতে ইচ্ছুক এই প্রার্থীর বার্ষিক আয় ৫৪ লাখ ৮৮ হাজার ৪৮৫ টাকা। তার নগদ অর্থ ৯৩ লাখ ৪৯ হাজার ৭৯৬ টাকা, ৬০ ভরি স্বর্ণ, শূন্য দশমিক ৪৪২৪ একর কৃষিজমি ও যৌথ মালিকানার পাঁচতলা বাড়ি রয়েছে। নিজের নামে তার একটি গাড়িও আছে। তার পেশা ব্যবসা, তবে বিভিন্ন কোম্পানির পরিচালক হিসেবে সম্মানি-ভাতাও পান তিনি। এ ছাড়া, তার নামে বিচারাধীন রয়েছে ২টি মামলা। তবে তার বাড়ি ও গাড়ি নিয়ে মোট ২৪ লাখ ৩০ হাজার ২৩৩ টাকা ঋণ রয়েছে।
নগদ অর্থের পরিমাণের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে আছেন প্রথমবারের মতো নির্বাচন করতে ইচ্ছুক আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। হলফনামা অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতায় ‘স্বশিক্ষিত’ সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহের পেশা ব্যবসা। তার বার্ষিক আয় আট লাখ ৩১ হাজার ৪০০ টাকা। সম্পদে নগদ অর্থের পরিমাণ আট লাখ ৮১ হাজার টাকা। পূর্বাচলে প্লট ও ঢাকার নিকেতনে তার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া, একটি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি রয়েছে তার নামে।
খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী এ কে এম মাহবুব আলম স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক। তার বাৎসরিক আয় চার লাখ ৪৩ হাজার ৭৫০ টাকা। সম্পদে নগদ অর্থ ছয় লাখ ৩৪ হাজার ৭৫০ টাকা, তার স্ত্রীর নামে ৮ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। তার এক দশমিক ৩৬ একর কৃষিজমি এবং ২ দশমিক ৯০২ শতাংশ অকৃষি জমি রয়েছে। যৌথ মালিকানায় তার আছে আধা-পাকা টিনশেড বাড়ি।
সিপিবি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছিলেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামা অনুসারে তার বাৎসরিক আয় দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা। সম্পদে নগদ অর্থ ১১ লাখ ২০ হাজার ও ৭ ভরি স্বর্ণ রয়েছে তার। শিক্ষাগত যোগ্যতায় এলএলবিতে বিএ ডিগ্রিধারী এ প্রার্থীর পেশা আইন-ব্যবসা। ২০০৮ সালের সিটি নির্বাচনের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেওয়া হলফনামায় তিনি তার পেশা গৃহ-শিক্ষকতা ও নগদ আয় ৭২ হাজার টাকা ও সম্পদ ৫০ হাজার টাকা দেখিয়েছিলেন। সেই হিসেবে তার বাৎসরিক আয় তিন গুণেরও বেশি ও সম্পদ দুই গুণের বেশি বেড়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ওবাইদুর রহমানের (মাহাবুব) বাৎসরিক আয় দুই লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা। তার পেশা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা দাওরায়ে-হাদিস। তার সম্পদ বিবরণীতে নগদ অর্থ না থাকলেও ছয় শতাংশ অকৃষি জমি, টিনশেড বাড়ি, স্ত্রীর নামে ছয় তোলা স্বর্ণ রয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী বশির আহম্মেদ ঝুনুর বাৎসরিক আয় দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা, সম্পদে নগদ অর্থ তিন লাখ টাকা ছাড়াও ১০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। তার ব্যবসা বাড়ি-ভাড়া। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাশ দেখানো হয়েছে।
বরিশাল সিটি নির্বাচনে এবার একমাত্র নারী মেয়রপ্রার্থী হচ্ছেন বাংলাদেশের সমাজতান্তিক দলের (বাসদ) ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিবিএস। পেশাগতভাবে চিকিৎসক হলেও আয়ের দিক থেকে মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে তিনি সর্বনিম্ন উপার্জনকারী। তার আয় বাৎসরিক মাত্র এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। তবে বিভিন্ন উৎস থেকে মনীষার সম্পদ রয়েছে নগদে ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৪০০ টাকার। তার কৃষি জমি ও বাড়ি নেই। থাকেন বাবার বাড়িতে। তার পাঁচ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। বরিশাল ও ময়মনসিংহে তার নামে দুইটি বিচারাধীন মামলাও রয়েছে।








