কোটা সংস্কার আন্দোলনকে সরকারবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান। তিনি বলেছেন, ‘এই দেশ মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছেন। অনেক মা-বোন তাদের সম্ভ্রম দিয়েছেন। সেই দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি চাকরিতে কোটা থাকা কি অন্যায়? কেন তারা এর বিরুদ্ধে লেগেছে। আসলে এটি কোটাবিরোধী আন্দোলন নয়, এটি হচ্ছে সরকারবিরোধী আন্দোলন।’
শুক্রবার (৬ জুলাই) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল সাড়ে ৯টায় শোভাযাত্রা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন উপাচার্য।
এ সময় অধ্যাপক আব্দুস সোবহান বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে গৌরব-উজ্জ্বল ইতিহাস। এ ক্যাম্পাসে কোনও রাষ্ট্রবিরোধী অশুভ শক্তির জায়গা হবে না। এ ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার জন্য একশ্রেণির শক্তি পাঁয়তারা চালাচ্ছে। আমি সব শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে কোটা আন্দোলনে হামলার প্রতিবাদ জানানোর কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষককে তিরস্কার করেছেন তিনি।
উপাচার্য বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সরকারি অবকাঠামো ব্যবহার করে একদল শিক্ষক গতকাল (বৃহস্পতিবার) সংবাদ সম্মেলন করেছে। তারা একপ্রকার সরকারের বিরুদ্ধেই কাজ করেছে। কারণ, তারা কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সমর্থন করেছেন।’
এর আগে শুক্রবার সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে পতাকা উত্তোলন, পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে সেখান থেকে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবন ও সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিনেট ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। এরপর সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এমএ বারী, প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান, জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক প্রভাষ কুমার কর্মকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই ১৫৩ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে ৯টি অনুষদে ৫৯টি বিভাগে ৩৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এখানে।








