উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে চলা সব ক’টি নদ-নদীর পানি বেড়েছে। ফলে সদর উপজেলা, রাজারহাট, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় বন্যার পানি বাড়ছে। নদীর তীরবর্তী নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। অনেক জায়গায় পানির স্রোতের তোড়ে অ্যাপ্রোচ সড়কেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ। সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কারণে কুড়িগ্রাম শহরের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ী উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে ভারী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এ সড়কে।
এদিকে ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মধ্য কুমোরপুর বাজারের কাছে কুড়িগ্রাম-নাগেশ্বরী-ভুরুঙ্গামারী সড়কের ওপর নির্মাণাধীন কালভার্টের বিকল্প সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বেইলি ব্রিজসহ বিকল্প সড়কটি পানিতে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) রাতে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন আল পারভেজ বিকল্প সড়কটি পরিদর্শন করেছেন। মধ্য কুমোরপুর বাজারের কাছে নির্মাণাধীন কালভার্টের বিকল্প সড়কে গিয়ে দেখা গেছে, ধরলা নদীর পানি বিকল্প সড়কে নির্মিত বেইলি ব্রিজের সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিকল্প সড়কটি মূল সড়কের চেয়ে অনেকটা ঢালু হওয়ায় পানির স্রোতের তোড়ে অ্যাপ্রোচ রোডে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর ফলে বেইলি ব্রিজের দুই দিকে অ্যাপ্রোচ সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। স্থানীয় সড়ক বিভাগ জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে অ্যাপ্রোচ সড়কের দুই দিকে ব্লক ফেলা শুরু করেছে।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, সড়ক বিভাগ ও তাদের নিয়োজিত ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে বিগত বছরের মতো এ বছরও জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কালভার্ট নির্মাণে পর্যাপ্ত সময় পেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ধীর গতিতে কাজ করায় কালভার্ট নির্মাণ শেষ করতে পারেনি।
এদিকে সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম-নাগেশ্বরী-ভুরুঙ্গামারী সড়কের ওপর ৬ মিটার দৈর্ঘ্যের বক্স কালভার্ট নির্মাণের জন্য রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স চুক্তিবদ্ধ হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কালভার্ট নির্মাণ শুরু হলেও মাঝে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ৩০ জুলাই কাজ শেষ করার চূড়ান্ত সময় থাকলেও কালভার্টটির উইং ওয়াল এবং স্ল্যাব নির্মাণ এখনও বাকি রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সড়ক বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, এই মুহূর্তে কাজ শুরু করা হলেও কালভার্টটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে এখনও ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে। তবে এরই মধ্যে বন্যার পানি প্রবেশ করায় আপাতত নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব নয়।
ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান জানান, সড়ক বিভাগ আর ঠিকাদারের অবহেলার জন্য তিন উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা হুমকিতে পড়েছে। বর্ষার আগে কাজ শেষ করার অনুরোধ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেয়নি।
তবে কাজে ধীর গতির অভিযোগ স্বীকার করে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন জানান, ঠিকাদারের সমস্যার কারণে কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিল।
ভোগডাঙ্গার ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিন আল পারভেজ জানান, সড়কটিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।








